চট্টগ্রাম নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাকলিয়ার খালপাড় দিয়ে বয়ে যাওয়া চাক্তাই ডাইভারশন খালের একটি অংশ এখন যেন খাল নয়, বরং ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খালের বুকে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ।
চসিক মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর একাধিকবার এই খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। অপরদিকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ওয়াপদ সৈয়দ শাহ সড়ক অংশে আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ কাজ শুরু হলেও তার ধীরগতি স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।
শুধু এই খালই নয়, নগরীর অধিকাংশ খাল-নালার অবস্থাও একই রকম। ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা হারাচ্ছে এসব জলপথ। খালের পানিতে জন্ম নিচ্ছে কচুরিপানা ও বিভিন্ন আগাছা, পাশাপাশি বাড়ছে পানিবাহিত রোগের জীবাণু এবং ডেঙ্গুবাহী মশার উপদ্রব।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত খাল-নালার ময়লা অপসারণ না করা হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। যদিও গত বছর তুলনামূলকভাবে জলাবদ্ধতা কম ছিল, যা অন্তর্বর্তী সরকারের চার উপদেষ্টার তদারকি এবং চসিক মেয়রের উদ্যোগে বর্ষার আগে খাল পরিষ্কারের ফল বলে মনে করা হয়।
তবে বর্তমানে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের কারণে খালে ভরাট করা মাটি ও জমে থাকা আবর্জনায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বর্ষা এলে দুর্গন্ধযুক্ত পানি উপচে সড়ক ও আশপাশের বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে শুষ্ক মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে পানির তোড়ে প্রবর্তক মোড় এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ দেবে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২২০০ টন অপসারণ করা সম্ভব হয়, বাকি বর্জ্য খাল-নালায় জমে থেকে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাহাড় কাটা, যার ফলে বৃষ্টিতে নেমে আসা কাদামাটি খালগুলো দ্রুত ভরাট করে ফেলছে।
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের দাবি, সিডিএ এখনো খালগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে না দেওয়ায় নিয়মিত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দুই সংস্থার এই সমন্বয়হীনতায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প থাকলেও খালগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে, যার চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে তাদেরই।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতার অভাবকেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নগরীর অনেক বাসিন্দা সরাসরি খাল-নালায় ময়লা ফেলছেন, ফলে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগও কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না।
বর্তমানে চলমান বক্স কালভার্ট নির্মাণ কাজ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ কাজ শুরু হয়ে ৩০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পিলারের কাজই সম্পন্ন হয়নি। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে এলাকাবাসীর মধ্যে জলাবদ্ধতার আতঙ্ক বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, খালে ভরাট করা মাটি দ্রুত অপসারণ এবং কালভার্ট ও সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার শঙ্কা থেকে মুক্তি দেয়।
Leave a Reply