কৃষিতে সমৃদ্ধ অঞ্চল বড়াইগ্রাম–গুরুদাসপুর এ জনপদ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের কৃষি মানচিত্রে বিশেষ পরিচিত। বহুদিনের দাবি এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। কৃষিকেন্দ্রিক অর্থনীতি, গবেষণা সুযোগ এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ এলাকায় এখন বিরাজ করছে উচ্ছ্বাস, প্রত্যাশা এবং উন্নয়নমুখী প্রতিযোগিতা। মাঠে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন, জানাচ্ছেন নিজেদের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম প্রচারণায় তুলে ধরছেন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং আধুনিক কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্ব। তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলছেন, এটা শুধু কৃষকের নয়—এ অঞ্চলের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের দাবি।
এদিকে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ, দীর্ঘদিন এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয়, মাঠে নেমে মানুষের সমস্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাজার অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন—এবার দলটিতে কোনো বিভাজন নেই, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দুই প্রার্থীই ইতিবাচক ও উন্নয়নমুখী প্রচারণার কারণে এলাকাবাসীর কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন।এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। মানুষ মনে করেন এই বিশ্ববিদ্যালয় হলে এলাকার কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
বড়াইগ্রামের মানিকপুর এলাকায় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, আমরা চাই যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন কৃষকের কথা শুনেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলে আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক চাষ শিখতে পারবো। দুইজন প্রার্থীই ভালো কথা বলছেন আমরা চাই কথা দিয়ে পরে ভুলে না যায়। গুরুদাসপুর এলাকার কলেজছাত্রী তাসনিয়া বলেন উন্নয়ন, শান্তি আর কর্মসংস্থান এই তিনটা বিষয় আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দুই প্রার্থীর প্রচারণায় উন্নয়নের কথা শুনে ভালো লাগছে।
বনপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন,
আমরা রাজনৈতিক বিরোধ চাই না, চাই উন্নয়ন। রাস্তা–ঘাট, বাজার, কৃষি এগুলোতে সবার নজর আছে দেখে ভালো লাগছে।
গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর এলাকার শিক্ষক মো. কামাল হোসেন বলেন এ এলাকায় সবসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়, কিন্তু এবার সবাই ইতিবাচক প্রচারণা করছে এটা প্রশংসার যোগ্য।
স্থানীয়রা বলছেন এবারের নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা নেই, বরং উন্নয়নমুখী ভাবনা বেশি। দুই প্রার্থীই নিজ নিজ জনপ্রিয়তাকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন, তবে কারোর ওপরই অভিযোগ বা নেতিবাচক প্রচার চোখে পড়ে না।
গণসংযোগে দুজনই মানুষের সমস্যা, স্থানীয় উন্নয়ন এবং এলাকার সমৃদ্ধি নিয়ে নানা ধারণা তুলে ধরছেন। ফলে ভোটাররাও বুঝতে পারছেন তারা উন্নয়নের প্রতিযোগিতা দেখছেন ব্যক্তিগত বিরোধ নয়।কৃষিতে সমৃদ্ধ জনপদে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতেই গতি পাচ্ছে নির্বাচন।
বড়াইগ্রাম–গুরুদাসপুরে নির্বাচনের প্রভাবিত মূল জনগণের আশা ও বিভিন্ন দাবির ভেতরে থাকছে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন,কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা,রাস্তা–ঘাট আধুনিকায়ন,বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন,কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন,দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন,শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন দুই প্রার্থীর প্রচারণায় এসব বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসছে।দুই প্রার্থীই নিজস্ব পরিকল্পনা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নিয়ে মাঠে নামলেও তাদের প্রচারণায় এক ধরনের ইতিবাচকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—যা স্থানীয় ভোটারদেরও সন্তুষ্ট করছে। কৃষিতে সমৃদ্ধ এই জনপদে মানুষ চায় উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। কাজেই ভোটারদের প্রত্যাশা—যেই নির্বাচিত হোন না কেন, তিনি যেন বড়াইগ্রাম–গুরুদাসপুরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নে আন্তরিক ভূমিকা রাখেন।
Leave a Reply