1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
‎পর্যটন ও শিল্পাঞ্চল ঘিরে আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কার্যক্রমঃ চট্টগ্রামে বাড়ছে সামাজিক ও পারিবারিক ঝুঁকি - দৈনিক আমার সময়

‎পর্যটন ও শিল্পাঞ্চল ঘিরে আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কার্যক্রমঃ চট্টগ্রামে বাড়ছে সামাজিক ও পারিবারিক ঝুঁকি

জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : শনিবার, ২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা, খুলশী, কোতোয়ালি, চকবাজার ও চান্দগাঁও থানা এলাকাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এ প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিল্পাঞ্চল, কর্মসংস্থানের কেন্দ্র এবং পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত এসব অঞ্চলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াতের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র আবাসিক হোটেলগুলোকে অনৈতিক সম্পর্ক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করছে বলে স্থানীয়দের দাবি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইপিজেডকেন্দ্রিক কর্মব্যস্ত এলাকাগুলোর কিছু আবাসিক হোটেলে স্বল্প সময়ের জন্য সহজে কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সুযোগ থাকায় একশ্রেণির নারী-পুরুষ গোপনে সেখানে প্রবেশ করছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মঘণ্টার ফাঁকে বা নির্দিষ্ট সময়ে এসব স্থানে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক অশান্তি এবং দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অপরদিকে পর্যটনকেন্দ্র পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও ফয়েজলেক এলাকায় ভ্রমণের আড়ালেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে এসব এলাকায় কিছু আবাসিক হোটেলের সামনে কিশোর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের অবস্থান করতে দেখা যায়, যারা পর্যটকদের ভালো মানের কক্ষ দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে হোটেলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সম্মানহানির মুখে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকা বিশেষ করে পতেঙ্গা ও ফয়েজলেক সংলগ্ন কিছু আবাসিক হোটেলে সরেজমিনে আরও উদ্বেগজনক চিত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব এলাকার কিছু হোটেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সুবিধার্থে পরিকল্পিতভাবে একাধিক নারীকে অবস্থান করানো হয়। পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে আগত পুরুষ গ্রাহকদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ ধরনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলেও ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাবে পারিবারিক কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ব্ল্যাকমেইল এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। একই সঙ্গে তরুণ সমাজের মধ্যে অসুস্থ সংস্কৃতির বিস্তার ঘটছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‎নগরীর সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামে সামাজিক শৃঙ্খলা ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় কঠোর নজরদারি জরুরি। তারা বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা, কোতোয়ালি, খুলশী, চকবাজার, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, পাহাড়তলী, কর্ণফুলী ও আকবরশাহসহ বিভিন্ন থানা এলাকায় আবাসিক হোটেলগুলোর কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি, অতিথির পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

‎সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, বৈধ আবাসিক হোটেল ব্যবসাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে বরং যেসব প্রতিষ্ঠান অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বা সুযোগ করে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো অসাধু প্রভাবশালী মহল বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকলে তা খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

‎চট্টগ্রাম মহানগরবাসীর প্রত্যাশা, পরিবার, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এতে করে শিল্পনগরী চট্টগ্রামের সামাজিক পরিবেশ আরও সুস্থ, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com