লক্ষ্মীপুর জেলায় জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেছেন, নজরুলের আদর্শ আমাদের হৃদয় ও মননে প্রকৃতভাবে ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তবেই সাম্যের ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। নজরুল সমাজের কুসংস্কার ও ধর্মীয় অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি নারীর অধিকারের প্রতি সচেতন ছিলেন এবং নারী জাগরণের কথা বলতেন। কিন্তু বর্তমানে অনেকে নারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নির্যাতন চালাচ্ছে, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে লাঞ্ছিত করছে। এসব থেকে বের হয়ে আসতে হবে, না হলে কখনো সত্যিকারভাবে বলা যাবে না যে আমরা নজরুলকে ভালোবাসি এবং তাঁর চেতনাকে লালন করি।
কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা নজরুল একাডেমীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সেলিম উদ্দিন নিজামী।
সাধারণ সম্পাদক কার্তিক সেনগুপ্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার, সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন পাঠান, চৌমুহনী এস.এ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জেড.এম ফারুকী, নজরুল একাডেমীর উপদেষ্টা এডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সাংবাদিক আ.হ.ম. মোশতাকুর রহমান প্রমুখ।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নজরুলের নামে রাস্তা, স্মৃতিস্তম্ভ বা অন্যান্য স্থাপনা করলেই হবে না; যদি আমরা তাঁর চেতনা ও আদর্শকে লালন না করি, তাহলে শুধুমাত্র মুখে ভালোবাসা জানানোর কোনো মূল্য নেই।
তিনি আরও জানান, কাজী নজরুল ইসলাহ সাম্য, মানবতা, প্রেম, প্রকৃতি ও বিদ্রোহের কবি। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান অসীম। সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি প্রেম, প্রকৃতি, বিদ্রোহ ও মানবতার অনবদ্য সব কবিতা, গান, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস ও অসংখ্য নাটক রচনা করেছেন। কালজয়ী প্রতিভার অধিকারী কবি নজরুলের লেখনির মাধ্যমে আমাদের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সনদপত্রসহ অন্যান্য পুরস্কার প্রদান করেন। এছাড়া জেলার গুণী শিল্পী, কবি ও আবৃত্তিকারদেরও সংবর্ধনা জানানো হয়।
Leave a Reply