1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
জুয়ার টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে - দৈনিক আমার সময়

জুয়ার টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

আল আমিন হোসেন, রাজশাহী
    প্রকাশিত : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
নেশা করে জুয়ার টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার নাম সোহেল রানা (৪৫)। তিনি রাজশাহীর একটি আদালতের অফিস সহায়ক। নির্যাতন সইতে না পেরে তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (২৭) কিছু দিন ধরে আলাদা থাকছেন। এখন পরকীয়ার অভিযোগ তুলে স্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দিচ্ছেন সোহেল।
সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে এমনই অভিযোগ তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগী খাদিজা খাতুন।
তার সঙ্গে ছিলেন মা রাহেলা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, জামাতা সোহেল রানার হাতে তিনি নিজেও দুবার আহত হয়েছেন। সোহেলের হাত থেকে মেয়ে খাদিজাকে রক্ষা করতে গেলে একবার হাত ভাঙে তার। আরেকবার মাথায় জখম হয়ে সেলাই লাগে ১০টি। মামলা, থানা-পুলিশে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে দাবি তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে খাদিজা বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বিয়ানাবোনা গ্রামে। আর সোহেল রানার বাড়ি তানোরের মুন্ডুমালা। ২০১৯ সালের ৪ মে তাদের বিয়ে হয়। তার দুটি মেয়ে আছে। একটির বয়স ৫ বছর, অন্যটির বয়স ২ বছর। বিয়ের পর থেকেই সোহেল রানা যৌতুকের টাকার জন্য শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করতেন। অতিষ্ঠ হয়ে ২০২১ সালের নভেম্বরে খাদিজা তাকে তালাক দেন। পরবর্তীতে সোহেল ভুল স্বীকার করে ২০২২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আবার বিয়ে করেন।
খাদিজা বলেন, ‘সে একজন মাদকাসক্ত ও অতিরিক্ত পর্যায়ের জুয়াড়ি ব্যক্তি। সে প্রায় সময় আমার অজ্ঞাতসারে সংসারের ব্যবহার্য জিনিসপত্র অন্যত্র বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করে জুয়া খেলে ও মাদক সেবন করতো। গত বছরের ২১ জুন আমার শিশুকন্যা গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন চুপিসারে খুলে নিয়ে যাচ্ছিল সে। আমার বড় মেয়ে দেখতে পেয়ে আমাকে জানালে, আমি তাতে বাধা দিই। এ সময় সে আমাকে মারধর করে বাড়ির বাইরে চলে যায়।’
তিনি অভিযোগ করেন, জুয়া খেলে মাঝে মাঝেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন সোহেল। তখন নেশা করে টাকার জন্য তাকে নির্যাতন করেন।
সর্বশেষ গত ২৪ জুন সোহেল রানা তার কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। তা না হলে আবার তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। খাদিজা এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে খাদিজাকে সোহেলের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যান তার ভাই। চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)। চিকিৎসার পর গত ৬ জুলাই কাশিয়াডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করতে যান। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
খাদিজার অভিযোগ, থানায় মামলা করার চেষ্টার কথা জেনে সোহেল ক্ষুব্ধ হয়েছেন। গত ২৪ অক্টোবর ফোন করে হুমকি দেন সোহেল। পরে তিনি থানায় মামলা করতে বের হলে পথের মধ্যে বেধড়ক মারধর করেন। ২২ নভেম্বর আবার রাস্তায় দেখতে পেয়ে সোহেল মারধর করেন তাকে। মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ কারণে ২৯ নভেম্বর তিনি রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে থাকা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মামলাটি আবার চালু করেন। কিন্তু সোহেল রানা তদন্তসহ সকল কাজে প্রভাব খাটিয়ে বাধা সৃষ্টি করছেন। সুবিচার পেতে খাদিজা খাতুন সংশ্লিষ্ট সবার সুদৃষ্টি কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি মাদকসেবন করি না, জুয়াও খেলি না। বরং, আমার স্ত্রী মাদকের ব্যবসা করে। মাদকসহ ধরা পড়ে তার বিরুদ্ধে মামলাও আছে। আমার দুইটা সন্তান আছে, সংসার টেকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি না। স্ত্রী আমাকে নানাভাবে হয়রানি করছে।’
মাদকের মামলার বিষয়ে খাদিজা খাতুনের দাবি, স্বামী সোহেল রানা তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করিয়েছিলেন। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্বামী সোহেল রানা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com