চট্টগ্রামে গত ১৩ মাসে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে অন্তত ১৬ জন খুন হয়েছেন— এমন তথ্য তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব হত্যার মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন, বাকিরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ নভেম্বর) সকালে এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি ও সদস্য সচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে সহিংসতার এমন ধারাবাহিক ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে বলে উল্লেখ করেন তারা।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও উল্লেখ করেন। তাদের তথ্যানুসারে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে বাকলিয়ার এক্সেস রোডে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মো. সাজ্জাদ (২২); এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১৪ জন। ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় পাঁচলাইশ চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগ চলাকালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন সরোয়ার হোসেন বাবলা। সবশেষ ৭ নভেম্বর রাতে হালিশহর মাইজপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন মো. আকবর (৩৫)।
বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে— এসব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আবারও নিরাপত্তাবোধ ফিরে পায়।
Leave a Reply