1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সিডিএ’র জমিতে কেজিডিসিএল ও বিদ্যুৎ বিভাগের ঘুষ বাণিজ্য নীরব ভূমিকায় সিডিএ, তড়িঘড়ি সংযোগ বিচ্ছিন্ন কেজিডিসিএলের - দৈনিক আমার সময়

সিডিএ’র জমিতে কেজিডিসিএল ও বিদ্যুৎ বিভাগের ঘুষ বাণিজ্য নীরব ভূমিকায় সিডিএ, তড়িঘড়ি সংযোগ বিচ্ছিন্ন কেজিডিসিএলের

জাকারিয়া হোসেন,চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মালিকানাধীন জমিতে ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। এ ঘটনায় বিদ্যমান সংযোগ কেটে ফেলা হলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কে বা কারা এই দুর্নীতিতে জড়িত, এবং কেনোই বা এত দিন সংযোগ বহাল ছিল?
সূত্র বলছে, নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন সিটি গার্ডেন আবাসিক এলাকার বিএস ৩ নম্বর খতিয়ানের ৮ নম্বর দাগভুক্ত জমির প্রকৃত মালিক সিডিএ। অথচ ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ওই জমিকে নিজের দাবি করে বোয়ালখালী উপজেলার চর খিজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো.দুলা মিয়া নামের এক ব্যক্তি কেজিডিসিএল থেকে ৮টি দ্বিমুখী চুলার গ্যাস সংযোগ নেন। তার গ্যাস সংযোগের কোড নম্বর: ১ডি-৫১-৪০০১। ঘুষের বিনিময়ে ভুয়া মালিকানা
প্রাপ্ত তথ্যমতে, দুলা মিয়া ২০১৪ সালে ১০৭/১৪ নম্বর মিস মামলা দায়ের করে জমির নামজারি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি সার্ভেয়ারের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, তার জমির দলিলে বিএস ৮ নম্বর দাগ নেই। সেই কারণে এসিল্যান্ড (ভূমি) তার আবেদন খারিজ করে দেন। অর্থাৎ, জমির মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে তিনি গ্যাস সংযোগ লাভ করেন।
এ বিষয়টি নিয়ে ২৩ জুন ২০২৫ খ্রিঃ জাতীয় দৈনিক আমার সময় সহ একাধিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে কেজিডিসিএল। পরে তারা গোপনে উক্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহির অভাব
এ বিষয়ে কেজিডিসিএলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে জানা যায়, তিনি ঢাকায় জরুরি মিটিংয়ে অবস্থান করছেন। এরপর সহকারী ব্যবস্থাপক (শেয়ার) শহিদুল ইসলাম এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা কুতুবুর রহমান প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, তারা লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে একে অন্যের কাঁধে দোষ চাপিয়ে কালক্ষেপণ করেন।
নীরব সিডিএ, বারবার প্রশ্নের মুখে ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সিডিএকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারাও কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, সিডিএ’র একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে মাসোহারা গ্রহণের মাধ্যমে এসব অনিয়মে জড়িত।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু গ্যাস নয় বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়েছে ওই ভুয়া মালিকানাধীন স্থাপনাটিতে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল চট্টগ্রাম বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, কালুরঘাট কার্যালয়ের আওতাধীন একাধিক বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ সেখানে বিদ্যমান রয়েছে। প্রশ্ন জাগে—বিদ্যুৎ বিভাগও কি ঘুষের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ দিয়েছে।
এ যেন দুর্নীতির এক গভীর সমুদ্র, যার জল আরও ঘোলা হচ্ছে প্রতিদিন। পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসবে—কারা কারা এই দুর্নীতির ছত্রছায়ায় ফুলেফেঁপে উঠেছে এবং প্রশাসনের ভেতর থেকে কাদের ছত্রচ্ছায়ায় এই দুর্নীতি দীর্ঘদিন টিকে আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com