প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ময়মনসিংহে বিক্ষোভ
ময়মনসিংহ নগরীর টাউনহল চত্বরে মঙ্গলবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পরিবর্তে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কর্মসূচি আহ্বান জানায় ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ এবং ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ কোটার মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডারদের শিক্ষক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন “ধর্মবিমুখ নীতির বহিঃপ্রকাশ”। তারা প্রশ্ন তোলেন, এটি কার স্বার্থে এবং কীসের ভিত্তিতে করা হচ্ছে।
আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী বলেন, গান শেখানোর পরিবর্তে শিশুদের নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা জরুরি। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে আলাদা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চারিত্রিক উন্নয়ন, মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা অপরিহার্য।
নেতৃবৃন্দ দেশের সচেতন মানুষদের কাছে আহ্বান জানান, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে অধর্মের পথে পরিচালনা করা প্রতিরোধ করা প্রতিটি দেশপ্রেমিক ও ঈমানদার মানুষের কর্তব্য। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তৃতীয় লিঙ্গ কোটার নামে শিক্ষাব্যবস্থায় সমকামিতার মতো এজেন্ডা প্রবেশ করানো হচ্ছে, যা সমাজে নতুন বিভাজন ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে পারে।
বক্তারা সরকারের উপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ। একদিকে সরকার বলছে, “সব সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারব না, নির্বাচিত সরকার এসে সিদ্ধান্ত নেবে,” অন্যদিকে ট্রান্সজেন্ডারসহ বিতর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের স্বার্থে অবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় যে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের আন্দোলন রাজপথে আরও কঠোর হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মজলিশে শূরার সভাপতি আল্লামা আব্দুর রহমান হাফেজ্জি। উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, আল্লামা আব্দুল হক, মুফতী মুহিববুল্লাহ, মুহাম্মাদ বিন হাফেজ্জি, মাওলানা মঞ্জুরুল হক, আবুল কালাম আজাদ, মুফতী আমীর ইবনে আহমাদ, মুফতী শরিফুর রহমান, মাওলানা মানাজির আহসান খান তাবশির প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল টাউনহল মোড় থেকে নতুন বাজার, বাতিরকল হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে গিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।
Leave a Reply