জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে আপগ্রেডিং এর মাধ্যমে জনৈক শিক্ষককে তড়িঘড়ি করে পদোন্নতি দেয়ার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৩ দর্শন বিভাগের অধ্যাপক/সহযোগী অধ্যাপক পদের সিলেকশন বোর্ড ডাকা হয়েছে। ওই শিক্ষক ২০ জুলাই অনলাইনে পিএইচডির ভাইভা দেন। এবং সেই তথ্য দিয়ে আবেদন করেন যার জন্য ২৩ জুলাই ২০২৩ বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সভা ডাকা হয়।
আপগ্রেডিং এর মাধ্যমে সহযোগী অধ্যাপক পদে আবেদনের অন্যতম শর্ত হলো সকল যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।সেই বিবেচনায় পিএইচডি র এপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করা যায় না।এবং সেই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন গ্রহণ না করে ফেরত পাঠায়।৭ দিনের মধ্যে একটি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিভাবে সনদ পাওয়া যায় সেই বিষয়টিও এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইতিমধ্যে ওই প্রার্থীর সাময়িক সনদ জমা দেন মাত্র ৭ দিনের মাথায়।চাকুরীর বিজ্ঞাপনে মূল সনদ দেয়ার শর্ত থাকলেও এবং পুনরায় ওই পুরাতন বাতিল আবেদন অগ্রায়ণ করা হয়।
অন্যদিকে, আরেক আবেদনকারীর আবেদন সম্পূর্ণ বৈধ হলেও এবং র্যাংকিংয়ে থাকা বিশ্বের ১০০ সেরা বিশ্ববিদ্যালয় মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়া থেকে এমএ , পিএইচডি ও শিক্ষায় গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা করা এবং ঢাকা , জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ থেকে প্রকাশিত জার্নালে একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ থাকা, বিশ্ব সেরা হার্ভার্ড , এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্ৰবন্ধ উপস্থাপন করা, অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সহযোগী এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করা শিক্ষককের আবেদন অগ্রাহ্য করে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়নি।জানা যায়, ওই আবেদনকারী ২০২০ সালে লিয়েন ছুটির আবেদন করেন এবং সেটা ৩৮ দিন পর অনুমোদন লাভ করে। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় সরকার করোনা মহামারীর কারণে লকডাউন তথা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে অনিরাপদ ঘোষণা করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করে।পরবর্তীতে জুলাই মাসে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে ওই শিক্ষকই সকলের মতো ক্লাস নেন এবং গবেষণা করে একাধিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিয়মিত অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
করোনা মহামারীর প্রকোপ কমলে ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সরকার ক্যাম্পাস খোলার অনুমতি দেয়। ইতিমধ্যে তিনি বিভাগে নিয়ম অনুসারে যোগদান করেন। এই সময় তিনি একটি বাহক চেক দিলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংক সেটা ফেরত দেয়। ওই শিক্ষক ব্যাংকে যোগাযোগ করলে তারা জানায় যে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্দেশনা দিয়ে ব্যক্তিগত হিসাবে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এবং হিসাব শাখায় খোঁজ নিতে বলেন।
সেখানে যোগাযোগ করে জানা যায় সাবেক উপাচার্য ওই হিসাব প্রথমে মৌখিকভাবে এবং ৬ মাস পর লিখিতভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন যা যেকোনোভাবেই আইনসম্মত নয়। এমন অবস্থায় যোগদান গ্রহণ না করে ৬ মাস পর ২০২২ সালের জুন মাসে একটি সিন্ডিকেট সভাতে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং ২ মাস পর সেটা ওই শিক্ষক জানানো হয়। এবং এরপর ওই কমিটি কয়েকটি সভা করে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে রিপোর্ট দিলে রেজিস্ট্রার কারণ দর্শানো নোটিস দেন। সেই জবাব দেয়ার পর একটি সিন্ডিকেট সভা হলেও অতীতের ন্যায় কালক্ষেপন করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়। নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার এই নারী শিক্ষককের বিষয়ে রেজিস্ট্রার/ উপাচার্যের এর কাছে এভাবে কেন হয়রানি করা হচ্ছে জানতে চাইলে কতৃপক্ষ কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। ভুক্তভোগী শিক্ষককে প্রশ্ন করা হলে আবেগ জড়িত হয়ে পড়েন এবং বলেন “আমার বাবা বুঝি এই জন্য বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন”।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবিতে সোচ্চার মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের এই নেত্রী বলেন, “আমাকে দিনে দিনে এভাবে তিলে তিলে শেষ করে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত আছেন জামাত-শিবির সম্মিলিত প্রশাসন। আমার পক্ষে একজন বেতনের কথা বললে উপাচার্য বলেন “তার স্বামী আছে”।
উল্লেখ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিতে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে একজন অফিসার সদস্য ছিলেন যা শিক্ষক সমাজের জন্য অবমাননাকর । আরেকজন শিক্ষক সদস্য দুর্নীতির দায়ে বিভাগের সভাপতির পদ হারিয়েছেন। এভাবে কমিটি গঠনকেও তিনি ষড়যন্ত্র মনে করেন। তিনি আরও বলেন, যেখানে সংবিধান ও সরকার নারীদের ক্ষমতায়নে নিবেদিত তখন উপাচার্য অসত্য অভিযোগে ৪২ মাস ধরে বেতন বন্ধ রেখে না খাইয়ে মাথা নিচু করে যাতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা চলে ও নারীরা মাথা উঁচু করে যাতে দাঁড়াতে না পারে সেই পথে হাটছে প্রশাসন।এবং সবশেষে উপাচার্য নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে পদোন্নতি দেয়া থেকে বঞ্চিত করবার পায়তারা করছেন।
Leave a Reply