1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
রামুতে বনভূমি দখল ও ঘুষবানিজ্যে বিট কর্মকর্তা সহ রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে - দৈনিক আমার সময়

রামুতে বনভূমি দখল ও ঘুষবানিজ্যে বিট কর্মকর্তা সহ রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে

দিদারুল আলম সিকদার,  কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের রাজারকুল রেঞ্জে দালান বাড়ি নির্মাণ পারমিশন দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জমানের বিরুদ্ধ। রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের  বনের জায়গা দখল দিয়ে পকেট ভারি করছে বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা।  দায়িত্বপ্রাপ্ত বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা পল্লব শাহ এবং রেঞ্জ ট্রেইনিং কর্মকর্তা অভিউজ্জমানের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বনভূমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের গোপন অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজারকুল ইউনিয়নের ৪নং চৌকিদারপাড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি বনভূমিতে দালানকোঠা নির্মাণের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছেন। এর মধ্যে ছুরত আলি প্রায় ২৫ হাজার টাকা, আব্দুস সালাম ১৫ হাজার টাকা এবং জহির নামের এক ব্যক্তি ২০ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর গত ২ মে ২০২৬ তারিখে বন বিভাগ একটি অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই অভিযানটি ছিল মূলত লোক দেখানো। অভিযানের সময় একটি নির্মাণাধীন স্থাপনায় বাধা দেওয়ার নাটকীয়তা দেখা গেলেও, পরবর্তীতে আবারো পূর্ণোদ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হয়। উক্ত অভিযানের সময় বিট কর্মকর্তা পল্লব শাহ’র মুখের মুচকি হাসিই উক্ত অভিযানের পিছনের রহস্য বর্ণনা করে।
এছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বনাঞ্চলের গাছ নির্বিচারে কাটার অনুমতি দেওয়া, পাঞ্জেখানা ছাগলিয়া কাটায় পাহাড় কাটা, ঢালারমূখ এলাকায় পাহাড় কাটা, ঘোনার পাড়া এলাকায় পাহাড় কাটা সহ জবরদখলে গোপন সহযোগিতা প্রদানসহ বিভিন্ন পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েও তারা বন ধ্বংসের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের রাজারকুল রেঞ্জে, রেঞ্জ ট্রেইনিং-এ এসে টাকার লোভে পড়ে এইসব কর্মকাণ্ড জড়িয়ে পড়েছেন অভিউজ্জমান নিবিড়।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই বনাঞ্চলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে বনভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এবিষয়ে রেজ্ঞ কর্মকর্তা অভিউজ্জামানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,
সবগুলো অভিযোগ মিথ্যা আর বানোয়াট ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com