রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের ইমাম মাওলানা আব্দুল কাদের এবং শ্যামলীর নূর মসজিদের ইমাম রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তোলা, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দুই ইমাম দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাট–প্লট বরাদ্দের নামে বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং অনিয়মের মাধ্যমে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।
মোহাম্মদপুরের বসিলায় গ্রীণ সিটি-২ এর রোড ৯/৩/ই, ব্লক-সিতে ১০ তলা বাড়ির অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর শ্যামলীতে রোড -০২, বাড়ি নং ১৩/৫/এ, (৫ম তলা) বর্তমান বসবাস করছেন মাওলানা আব্দুল কাদের। এছাড়াও এই ইমামের সাভার হেমায়েতপুরে আলম নগর হাউজিংয়ের রোড নং-১৫, হোল্ডিং নং ১৯-২০ রয়েছে ৬ তলা আলিশান বাড়ি রয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলায় গ্রীণ সিটি-২ এর রোড ৯/৩/ই, ব্লক-সিতে ২টি ফ্ল্যাট-বি ও সি(৩) ও ঢাকা-মেট্রো ৬-২০-০৬৮৮ একটি ব্যাক্তিগত গাড়ি রয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় কামারপাড়ার পূর্ব চাকামইয়ায় ইমাম রফিকুলের গ্রামে বাড়ি। আব্দুল কাদেরের সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার টেংরা হাটা, আমন মেহার গ্রামের বাড়ি।
সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুরের বসিলায় গ্রীণ সিটি–২ এর রোড ৯/৩/ই ব্লক–সিতে একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণের অর্থায়ন ও ফ্ল্যাট বণ্টনকে কেন্দ্র করে দুই ইমাম অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। আরও বলা হয়, তারা সেখানে ২টি করে মোট ৪টি ফ্ল্যাট নিজেদের দখলে নেন। এছাড়া আব্দুল কাদেরের শ্যামলীতে এবং সাভারের হেমায়েতপুরে আলম নগর হাউজিং এলাকায় বহু সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীরা। রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও শ্যামলীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিকানার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘বায়তুল আসকান অ্যাসোসিয়েশন’ নামে গঠিত কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ২০১৭ সালে এক বছরের জন্য দায়িত্ব পেলেও অদৃশ্য প্রভাব খাটিয়ে এখনও কমিটি নিয়ন্ত্রণ করছেন, কোনো সভা করছেন না এবং আর্থিক প্রতিবেদনও দিচ্ছেন না। কমিটির অনুমোদন ছাড়া বিপুল অর্থ লেনদেন, বিল ভাউচারবিহীন খরচ ও নগদ লেনদেনের অসামঞ্জস্য নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি বা হস্তান্তরের দাবি জানালে দুই ইমাম বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বিত করছেন। প্রায় ১৫ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি দাবি করে মালিকরা বলেন, দুই ইমাম সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে বহু মানুষকে প্রতারিত করেছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, মাত্র ১৪–৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দুই ইমাম কীভাবে শত কোটি টাকার মালিক হলেন, সে বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন। আরও জানান, ব্যবসায়ী ও ফ্ল্যাট মালিকদের কাছ থেকে ভবন নির্মাণের কথা বলে কোটি টাকা নেওয়ার প্রমাণ তাদের হাতে আছে।
অভিযোগে আরও উঠে আসে, দুই ব্যক্তি অতীতে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, যা ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। ফ্ল্যাট বণ্টনে লটারি প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
পঙ্গু হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’-এর সঙ্গেও আব্দুল কাদেরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের সক্রিয় ব্যক্তি মাসুদ রানার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতার কথা বিভিন্ন সূত্র বলছে।
এ প্রতিবেদক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য দিতে চাই না। কমিটির মাধ্যমেই সব সমস্যা সমাধান করা হবে।” অন্যদিকে আব্দুল কাদের বলেন, “ফ্ল্যাট মালিকরাই রেজিস্ট্রি মানতে চান না। তারা একসাথে এলে সমাধান করা সম্ভব।” তবে পরে তিনি আর সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেননি।
বিভিন্ন এলাকায় প্লট ও ফ্ল্যাট দখল, ভাড়াটিয়াদের টু-লেট বিজ্ঞাপন ছিঁড়ে ফেলা, ভাড়া না দিলে হুমকি দেওয়া—এসব অভিযোগও এসেছে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এছাড়া একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, দুই ইমাম মাঝে মাঝে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ‘বায়তুল আসকান অ্যাসোসিয়েশন’-এর আর্থিক স্বচ্ছতা ও ফ্ল্যাট মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা যায়।
Leave a Reply