গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দুই নেতার মধ্যে বিরোধের জেরে চাঁদা দাবি ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাসাস নেতা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলের দিকে গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মেরাজুল ইসলাম থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শ্রীপুর থানায় অভিযোগকারী হাসিবুল হাসান সরকার হাশেম। তিনি উপজেলার বারতোপা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে। তিনি শ্রীপুর উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব। খুলনা অঞ্চলের মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাফারি পার্কের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজটি করছে। তিনি প্রতিষ্ঠানে সাপ্লাইয়ার হিসাবে নির্মাণ সামগ্রী সবরাহ করছেন। অভিযুক্ত কৃষকদল নেতার নাম হুমায়ুন কবির। তিনি শ্রীপুর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব। তিনি মাওনা ইউনিয়নের সাফারি পার্ক সংলগ্ন ইন্দ্রপুর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,খুলনা অঞ্চলের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মের্সাস সরকার এন্টারপ্রাইজ’ গাজীপুর সাফারি পার্কে প্রায় ৬৫০ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ করছে। ওই প্রতিষ্ঠানে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন হাসিবুল হাসান সরকার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই কাজে ইট, বালি ও রড সরবরাহ করে আসছিলেন।
হাসিবুল হাসান সরকারের দাবি, সম্প্রতি শ্রীপুর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির একই কাজের সাপ্লাই নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে তিনি ( হাসিবুল হাসান সরকার) রাজি না হওয়ায় তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দাবি পূরণ না করায় কয়েক দিন আগে ইটের খোয়া ও চার টন রডবোঝাই একটি ট্রাক রাস্তা থেকে নিয়ে গেছেন হুমায়ুন কবিরের লোকজন।
অভিযোগকারী জাসাসের সদস্য সচিব হাসিবুল হাসান সরকার আরও বলেন, আমি সরকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে সাফারি পার্কের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য যাবতীয় নির্মাণ সামগ্রী সাপ্লাই করে আসছি। চার দিন আগে স্থানীয় কৃষক দলের সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির ও তার লোকজন এসে কাজে বাধা দেয়। তারা এ কাজটি করবে আর আমাকে এ সাপ্লাই কাজটি ছেড়ে দিতে বলেন। পরে আমি তাতে রাজি হইনি। ইতিমধ্যে আমার কয়েক লক্ষ টাকা এখানে ইনভেস্ট করা হয়েছে। ফলে এ কাজ ছাড়া কোনও মতেই সম্ভব না। এতে হুমায়ুন করিব ও তার লোকজন মিলে আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি তাতেও রাজি হইনি। পরে সে নানাভাবে হুমকি দেয়। এক সময় জোর আমার ট্রাক ভর্তি ইটের খোয়া ও চার টন রড রাস্তা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ট্রাকে সাড়ে চার শ ফিট ইটের খোয়া ছিল। অন্তত সাড়ে তিন লাখ টাকার রড ছিল।
অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। একপর্যায়ে খোলা পাওয়ার পর ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, “একটি পক্ষ সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। ট্রাক থেকে মালামাল নেওয়ার বিষয়টি শুনেছি, তবে কারা জড়িত তা নিশ্চিত নই।”
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন,’অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অপরাধীকে ছাড় দিবেন না। আমরাও কঠোর অবস্থানে আছি। ওই নেতার বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ প্রসঙ্গে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমিতাভ চৌধুরী জানান, একটি বাড়ির পাশে ইটের খোয়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মেরাজুল ইসলাম বলেন,’ অভিযোগ পাওয়ার পর একজন এসআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ফয়সালা করবেন বলে আমাকে বিবাদী পক্ষ জানিয়েছেন। কিন্তু এখন কি অবস্থা তা জেনে পরে বলতে পারবো।’
Leave a Reply