1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সাতক্ষীরার ডিবি গার্লস স্কুলে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথা প্রতিরোধে সভা - দৈনিক আমার সময়

সাতক্ষীরার ডিবি গার্লস স্কুলে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথা প্রতিরোধে সভা

সিরাজুল ইসলাম সাতক্ষীরা
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫

বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথা প্রতিরোধ বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বাল্যবিবাহ মানেই প্রতিভার পতন। বাল্যবিবাহ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অভিশাপ। এ অভিশাপ থেকে মুক্তির উপায় সামাজিক সচেতনতা এবং নারীর প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি।সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডি. বি) মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে প্রজেট্টো উওমো ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনাল অনলুস আয়োজিত ওই সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।বক্তারা আরও বলেন, পৃথিবীর যে কয়টি দেশে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেশি, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। বক্তারা আরও বলেন, আমাদের দেশে বেশিরভাগ মেয়ের বিয়ে হয় ১২-১৮বছরের মধ্যে। বিয়ের ১৩ মাসের মধ্যেই ৬৫% নারী সন্তান ধারণ করেন। গ্রামের নারীদের বেশিরভাগই বিয়ের এক বছরের মধ্যে সন্তান জন্ম দেন। এসব বাল্যবিবাহের অধিকাংশ কারণ হচ্ছে- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিতি, স্মার্ট ফোনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি, ছেলে মেয়ের অবাধে বিচরণ, কন্যা সন্তানকে বোঝা মনে করা, দরিদ্রতা, সচেতনতার অভাব, প্রচলিত কুসংস্কার, সামাজিক অস্থিরতা, মেয়েশিশুর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, নিরাপত্তার অভাব, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, যৌতুক প্রথা এবং বাল্যবিবাহ রোধ-সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াসহ নানা কারণে বাল্য বিয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, পিতা মাতা মেয়েদের বাল্য বিয়ে দেওয়াটাকে মুখ্য, পড়া লেখা করাটাকে গৌণ বলেই মনে করছেন। বাল্যবিবাহের কারণে অপরিণত বয়সে সন্তান ধারণ, মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যহানী, তালাক, অপরিপক্ক সন্তান প্রসবসহ নানাবিধ জটিলতার শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশের ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ১৮বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দিচ্ছেন ২৪ শতাংশ নারী।তাছাড়া বিগত ১২ মাসে সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের ২৮ শতাংশ। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে মাত্র ৪৭শতাংশ নিজেদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে জেনে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বাংলাদেশে বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া সম্পন্ন করতে পারে ৫৯ দশমিক ২২শতাংশ কন্যাশিশু। বিশ্বে প্রতি ৭সেকেন্ডে ১৫বছরের কম বয়সী একটি কন্যাশিশুর বিয়ে হয়। কন্যাশিশুর বিয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর অন্যতম একটি। বাংলাদেশে ১৮ শতাংশ মেয়ের ১৫ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে হয়। ইউনিসেফের মতে বর্তমানে বিশ্বে ৭০ কোটি মেয়ে বাল্যবিয়ের শিকার।এ ধারা চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে ৯৫ কোটিতে পৌঁছতে পারে। বাংলাদেশে ১৫ বছরের কম বয়সী বিবাহিত মেয়েদের ২০ শতাংশ ২৪ বছর বয়স হওয়ার আগেই দুই বা ততোধিক সন্তানের মা হচ্ছেন, এর ফলে প্রসূতির মৃত্যুর হার এবং অপুষ্টিজনিত সমস্যার প্রকট বাড়ছে। বাংলাদেশে ৬৬ শতাংশ নারীর ক্ষেত্রে ১৯বছর বয়সের আগেই বাল্যবিয়ের শিকার নারীরা অন্তঃসত্ত¡া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে একজনের বিয়ে হয় ১৮ বছর হওয়ার আগেই। কিন্তু এক দশক আগে এই সংখ্যা ছিল প্রতি চারজনে একজন।বক্তারা বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহবান জানান।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলাম দুলুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন প্রজেট্টো উওমো ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনাল অনলুস-এর মো. আমিনুল ইসলাম, ডাবলু সরকার, দুখীরাম মন্ডল, সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুজিত কুমার মন্ডল, সহকারী শিক্ষক মো. নজিবুল ইসলাম, এসএম শহীদুল ইসলাম, দেবব্রত ঘোষ, অরুন কুমার মন্ডল, মো. হাফিজুল ইসলাম, গীতা রানী সাহা, শামীমা আক্তার, ভানুবতী সরকার, কনক ঘোষ, মৃনাল বিশ্বাস, আজহারুল ইসলাম, আসমাতারা জাহান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে ঋশিল্পীর সংস্কৃতিজন মনিরুজ্জামান মনি। এসময় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মাঝে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com