কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ” এই কথাটিই যেন আবার সত্য প্রমাণ করলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পরিশ্রমী কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষক কৃষাণীর মুখে লেগেছে হাঁসি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সবুজে মোড়া মাঠের পর মাঠ যেখানে চোখ রাখি সেখানেই সোনালী ধানগাছের ঢেউ। কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাঁসি আর মনে আশার আলো। “বর্ষা মৌসুমে ধান চাষে সেচ কম লাগে, তবে পোকামাকড় আর রোগ বালাইয়ের আক্রমণ কিছুটা বেশি হয়। কীটনাশক ও সারের দাম বেড়েছে, তবুও ফলন ভালো হওয়ায় এবার ধান চাষে লাভবান হবে বলে আশা করছেন এখানকার কৃষককূল। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শ্রীধরকাঠির কৃষক শেখ আব্দুস সালাম ও আবুল কালাম বলেন, “আমরা ব্রি ধান ৭৫ জাতের ধান লাগিয়েছি। বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২২ মণ ধান পাব বলে আশা করছি।” মৌতলা ইউনিয়নের কৃষক কাজী মোফাজ্জেল কবীর পলাশ জানান, এবার আমি নতুন ব্রি ধান ১০৩ চাষ করেছি। সব ঠিক থাকলে বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ২৮ মণ পর্যন্ত ফলন হবে বলে আশা করছি। তবে সার ও শ্রমিকের দাম এবার অনেক বেড়েছে। এখন ধান কাটতে একজন শ্রমিককে ৭০০-৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে, তারপরেও শ্রমিক পাওয়া কঠিন।”
কৃষ্ণনগরের কৃষক রেজাউল ইসলাম খাঁ বলেন, “আমি ব্রি ধান ৪৯ জাতের ধান চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। এক বিঘা জমিতে ২৫-২৮ মণ ধান উৎপাদন হবে বলে ধারণা করছি।”
কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়াসীম উদ্দিন জানান,“চলতি মৌসুমে উপজেলায় এবছরে ১৭০১৩ হেক্টর জমিতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ১৭০৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। তবে এ উপজেলায় পানি ফলের আবাদ ৯০ হেক্টর জমিতে হযেছে। অথচ ৩০ হেক্টর জমিতে পানি ফলের চাষ হয়। এ বছর পানি ফরের চাষ বেড়ে যাওয়ায় আমন ধানের চাষ কিছুটা কম হয়েছে।
“এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও কীটপতঙ্গের তেমন কোনো আক্রমণ না থাকায় লক্ষ্যমাত্রায় জমিতে চাষ হয়েছে এবং ফলনও বেড়েছে। বাম্পার ফলনে কৃষকরা অত্যন্ত খুশি। আবহাওয়া ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে তারা প্রত্যাশিত লাভবান হবেন।”
Leave a Reply