চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার সিইপিজেড মুখে প্রধান সড়কে সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। হাতে ব্যানার–প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠে শ্লোগান—
“রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র ইপিজেড বাঁচাতে হবে, ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে!”
বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পের মেরুদণ্ড চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (সিইপিজেড) ও কর্ণফুলী এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড)-কে আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসরদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল মানববন্ধন।
৫ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার সকাল ১১টা
চট্টগ্রাম সিইপিজেড এলাকায়, বন্দর নগরীর সচেতন নাগরিক সমাজ এ মানববন্ধন আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক – চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।
সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব হানিফ সওদাগর, সদস্য – চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও সাবেক সভাপতি – বন্দর থানা বিএনপি।
সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ আজম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি – ৩৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি।
প্রধান বক্তা ছিলেন মোঃ সেলিম, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক – চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন –
হাজী মোঃ সালাউদ্দিন, মাহাবুব আলম বাচ্চু কোং, হাজী মোঃ হোসেন, হাজী মোঃ ইলিয়াছ, মোঃ সালাউদ্দিন, হারুণ মেম্বার, মোঃ তাজ উদ্দিন তাজু, আবু বক্কর বকুল, শাহানামা বাচা, মোঃ কামরুল, আলী আজম, আলী আহসান, আনোয়ার হোসেন জুনু, মাহাবুব আলম, মোঃ দিদার আলম, মোঃ শাহনেওয়াজ, রিয়াজ উদ্দিন রাজু, সায়দুর রহমান রহিম, মোঃ মহিউদ্দিন, মোঃ জুবায়ের, জাবেদ কায়ছার, আব্দুর নূর মিন্টু, নেজাম উদ্দিন, আক্তার হোসেন, শাহজাহানসহ এলাকার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনগণ।
বক্তারা বলেন—
“বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই সিইপিজেড ও কেইপিজেড। অথচ আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসররা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। এতে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা ও বৈদেশিক আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তারা আরও বলেন—
“রপ্তানি অঞ্চলগুলোতে শিল্প শান্তি ও বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতিমূলক চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ইপিজেডে যেসব আওয়ামী দোসর বিভিন্ন কারখানায় নামধারী ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
মানববন্ধনে বক্তারা বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন—
“বেপজাকে অবশ্যই ইপিজেডের মূল উদ্দেশ্য— রপ্তানি বৃদ্ধি, শ্রমিক কল্যাণ ও বিনিয়োগ সুরক্ষা— এগুলোতে মনোযোগী হতে হবে। কোনো দলীয় দোসরের প্রভাবে এই শিল্পাঞ্চল যেন অরাজনীতিক ও অরাজকতার কবলে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
শেষে উপস্থিত সবাই ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে ঘোষণা দেন—
“দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড ইপিজেডকে কোনো স্বৈরাচারী দোসরের হাতে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না। শ্রমিকের ঘাম, রপ্তানিকারকের শ্রম আর দেশের সুনাম— আমরা একযোগে রক্ষা করব।”
Leave a Reply