1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে হুমকির মুখে দু’হাজার পরিবার ভেরিবাধের দাবিতে মানববন্ধন - দৈনিক আমার সময়

মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে হুমকির মুখে দু’হাজার পরিবার ভেরিবাধের দাবিতে মানববন্ধন

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট
    প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে থেমে নেই পানগুছি নদীর ভাঙ্গন। নতুন করে ভাঙ্গনের হুমকির মুখে ৩ গ্রামের দুই হাজার পরিবার। বুধবার দুপুরে  স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ৫ কিলোমিটার স্থায়ী ভেরিবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীর তীরবর্তী হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের সানকিভাঙ্গা, বদনীভাঙ্গা, পাঠামারা, হাজিগঞ্জ বাজার অভিমুখি বলেশ^র সিমান্তবর্তী তিন গ্রামের প্রায় ২ হাজার পরিবারের ৮ হাজার মানুষের এখানে বসবাস। নতুন করে আবারও ভাঙ্গনের মুখে আশংকায় রয়েছে বসতবাড়ি, ফসলী জমি, ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদনী ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিএস রহমতিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ৪ টি মসজিদ, বাটা বাজার, বদনীভাঙ্গা বাজার, পানগুছি বাজার ও হাজিগঞ্জ বাজার। স্বাধীনতার পরবর্তী ৮০’র দশক থেকে পানগুছি নদীর এ ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবছরই নদীগর্ভে নতুন নতুন স্থান থেকে ভেঙ্গে যাচ্ছে বসতবাড়ি নদীতে চলে যাওয়ায় সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে শত শত পরিবার। অভিবাসন হয়ে চলে গেছেন রাজধানী ঢাকা, ফেনী, চট্ট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়। এ অব্যাহত ভাঙ্গনের  কারনে দিন দিন ফসলী জমি কমে যাচ্ছে তেমনি পুর্ণিমার জোয়ারের প্রবল ¯্রােতে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাচ্ছে। গবাদী পশু নিয়ে পড়ছে বিপাকে। শুধুমাত্র আমন ফসলের ওপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষকদের। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার বিঘা ফসলী জমি নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়েছে।

কৃষক আতাহার আলী শেখ, সালেহা বেগম, তোফাজ্জেল মাতুব্বর, আব্বাস ডাক্তার, সেলিম খান, বাবুল মাতুব্বার, ওবায়দুল মাতুব্বারসহ একাধিক বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘ বছরধরে শুনে আসছি ভেরিবাঁধ হবে। কবে হবে ভেরিবাঁধ? ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি নদী ভেঙ্গে যাচ্ছে। অনেকেরই ৩০/৪০ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। বাড়িঘর না থাকায় নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন হাজারও পরিবার। সরকারের কাছে দাবি বদনীভাঙ্গা হয়ে হাজিগঞ্জ বাজার বলেশ^রের সিমান্ত পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার স্থায়ী ভেরিবাঁধ হলে ৩ গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন আর ব্যহত হবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ বলেন, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে উপকূলীয় এ উপজেলায় কিছু অংশে ভেরিবাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন করে কয়েকটি স্থানে ভাঙনের কথা শুনেছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

বাগেরহাট জেলা পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল বিরুনী বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ইতোমধ্যে পানগুছি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬শ’ ৫০ কোটি টাকার ভেরিবাঁধের কাজ ২০২৩ সালে খাউলিয়া থেকে ফেরীঘাট পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার এবং শ্রেনীখালী এলাকায় দেড় কিলোমিটার ভেরিবাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। হোগলাবুনিয়ার ভাঙ্গনের বিষয়টি তিনি অবহিত নন। স্থানীয়রা লিখিতভাবে জানালে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com