সিএনজি ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র তৈরির কারখানা, সরবরাহকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসা দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে হাটহাজারী থানা পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে দেশীয় পেনগানসহ ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হাটহাজারীতে অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর ওই চক্রের সদস্যদের ওপর নজরদারি শুরু করা হয়। একই সঙ্গে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের নেতৃত্বে এসআই ফখরুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে মো. জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) এবং মো. কবির (৪৭) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে একটি অত্যাধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল, ১৮টি পেনগানের গুলি ও দুটি পিস্তলের বুলেট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারে অবস্থিত ওসমানের সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হতো। পরে তৈরি করা এসব অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশ্যে সরবরাহ করা হতো।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত সরকারহাট বাজারে অবস্থিত ওই ওয়ার্কশপে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সেখানে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রমের বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। একই সঙ্গে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশের এ অভিযানের মাধ্যমে হাটহাজারীতে অবৈধ অস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসের সন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পলাতক ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্রের উৎস নির্মূলে জেলা পুলিশের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply