চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানাধীন ৩৮ নং ওয়ার্ড মাইজপাড়া আব্দুল খালেক রোড, চুন্নু মিয়ার বাড়ি নেছার আহমদ কলোনির অস্থায়ী ভাড়াটিয়া বাসিন্দা আছমা বেগম কে তারই স্বামী মোঃ বেল্লাল হোসেন লোহার হাতুরি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। পুলিশ সূত্রে মামলার বিবরণে জানা যায়-
ভিকটিম আছমা বেগম (৪১) একজন গার্মেন্টস কর্মী। ভিকটিমের স্বামী প্রায় সময় নেশা করার টাকার জন্য ভিকটিম এর সাথে প্রতিদিন বঝগড়াঝাটিসহ, অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও মারধর করতো। এর জের ধরে গত ০৮/০৮/২০২৫ ইং তারিখ দিবাগত রাতে ০৯/০৮/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকার সময় আসামী মোঃ বেল্লাল হোসেন একটি লোহার হাতুরি দিয়ে ভিকটিম আছমা বেগম (৪১)’কে মাথার ডান পার্শ্বে বারি দিলে ভিকটিম খাটের উপর পড়ে গেলে আসামী ভিকটিমকে হাতুরি দিয়ে উপর্যুপরি আরো ০৩-০৪ টি বারি দিয়ে মাথার ডান পাশ গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ভিকটিম এর ছেলে মোঃ হান্নান (১৭) বর্ণিত ঘটনা দেখিয়া শোর-চিৎকার করিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে সে রুমের দরজা খুলি। দরজা খোলার সাথে সাথে আসামী কৌশলে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন আসিয়া ভিকটিম আছমা বেগম (৪১)’কে উদ্ধারকরতঃ চট্টগ্রাম মা শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। উক্ত হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই বন্দর থানার একাধিক চৌকস টিম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হাতুরিটি ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং গুপ্তচর নিয়োগের মাধ্যমে ঘাতক স্বামী মোঃ বেল্লাল হোসেন (২৯)’কে ইং ০৯/০৮/২০২৫ তারিখ দুপুর অনুমান ০২.০০ ঘটিকায় বন্দর থানাধীন মুন্সিপাড়া এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং আসামীর পরিহিত রক্তমাখা লুঙ্গী জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী’কে হত্যা করে। বন্দর থানার মামলা নং-০৫, তারিখ-০৯/০৮/২৫ইং, ধারা-৩০২ পেনাল কোড ১৮৬০ রুজু করে আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ কর হয়েছে।
Leave a Reply