টানা অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, নিচু অঞ্চল প্লাবিত হওয়া এবং পাহাড়ি ঢলের প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আরও কয়েক দফা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ অবস্থায় পাহাড়ি ঢল, পাহাড়ধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ, নিরাপদ স্থানে অবস্থান এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা ও সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এসব জেলার নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী কয়েকদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলা, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকা এবং প্রশাসনের যেকোনো জরুরি নির্দেশনা দ্রুত অনুসরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
Leave a Reply