1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
মাছুয়াপাড়ায় চাঞ্চল্যকর চার খুন: দুইজন আটক, দ্রুত পদক্ষেপে পুলিশের প্রশংসা - দৈনিক আমার সময়

মাছুয়াপাড়ায় চাঞ্চল্যকর চার খুন: দুইজন আটক, দ্রুত পদক্ষেপে পুলিশের প্রশংসা

আলামীন রংপুর
    প্রকাশিত : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাস (২৩) নামে দুইজনকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত ২১ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রিয়ম।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে। পুলিশের ম্যানুয়াল সোর্সিং, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সিদ্ধার্থ দাসকে তার চাচার বাসা থেকে আটক করা হয়। অপরদিকে মুগ্ধ দাসকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটকের চেষ্টা করা হলে সে বাসার টিনের বেড়া ভেঙে পালিয়ে যায়। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল তাকে ধাওয়া করে। প্রায় এক ঘণ্টার অভিযানের পর তুতপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুগ্ধ দাস হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে পৃথক এবং মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা পরস্পরের যোগসাজশে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পরস্পরসঙ্গত তথ্য দেয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির দোতলায় যায়। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি তাদের চুরির উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখতে পান। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তারা গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় থাকা গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে মরদেহটি ছাদে থাকা টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
এ সময় টিনের শব্দসহ অন্যান্য শব্দে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও মেয়ে দোতলায় উঠে এলে তাদেরও সিঁড়ির মধ্যে গলায় ওড়না/দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে জিনিসপত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে গণপতি চক্রবর্তীর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে প্রিয়মকেও তার শয়নকক্ষে একই কায়দায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে আটক দুজন জানিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর আটক দুজন বাড়ি থেকে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে ছাদ দিয়ে বের হয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে নিয়ে যাওয়া ওই মালামাল শ্যামাসুন্দরী খালে ফেলে দেওয়া হয়। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সামগ্রী, নিয়ে যাওয়া মালামাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আটক সিদ্ধার্থ দাস (১৯) তুতফার্ম, কামাল কাছনা, মাছুয়াপাড়া এলাকার বিনয় চন্দ্র দাস ও পাপড়ি দাসের ছেলে। অপর আটক মুগ্ধ দাস (২৩) একই এলাকার মৃত কানু দাসের ছেলে।
এদিকে, ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও আটক করায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা, তথ্য বিশ্লেষণ ও দ্রুত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে দুইজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, “চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতার সমন্বয়ে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে দুইজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও নিয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে চাই।”
পুলিশ কমিশনার বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বক্তব্যকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নেওয়া হচ্ছে না। তদন্তের অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ, আলামত, সাক্ষ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা নিশ্চিত করা হবে। এ ঘটনায় কেউ যেন গুজব বা অসমর্থিত তথ্য প্রচার না করেন, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।”
তবে পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ, আলামত, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, সাক্ষ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় আরও কোনো ব্যক্তি বা সহযোগী জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রত্যেকের ভূমিকা নিরূপণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।মাদকের বিরুদ্ধে জিরো  টলারেন্স এ কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ কে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সাহায্য করেন আমরা পুলিশরা দ্বায়িত্বের সাথে কাজ করবে বলে জানিয়েছে।  কঠোর পরিশ্রম করে পুলিশ মানুষের মাঝে সেবা দিয়ে যাচ্ছে এমনটা জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com