1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
১০ বছর পর ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন মা, যুক্তরাজ্য থেকে ছুটে এলেন সন্তানের টানেঃ ‎লিগ্যাল এইডের উদ্যোগে আবেগঘন পুনর্মিলন - দৈনিক আমার সময়

১০ বছর পর ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন মা, যুক্তরাজ্য থেকে ছুটে এলেন সন্তানের টানেঃ ‎লিগ্যাল এইডের উদ্যোগে আবেগঘন পুনর্মিলন

জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

দীর্ঘ ১০ বছর পর নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এক মা। কেবল ছেলেকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষায় হাজার মাইল দূরের যুক্তরাজ্য থেকে ছুটে আসেন তিনি। জন্মের পর নানা আইনি ও পারিবারিক জটিলতায় সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও মাতৃত্বের টান তাকে বারবার সন্তানের খোঁজে ফিরিয়ে এনেছে। অবশেষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর (লিগ্যাল এইড)-এর উদ্যোগে সোমবার (২২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামে ঘটে মা-ছেলের সেই আবেগঘন পুনর্মিলন।

‎লিগ্যাল এইড সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে শিশুটির মা-বাবার বিয়ে হয়। বাবা আগে থেকেই যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতেন। বিয়ের পর মা-ও সেখানে চলে যান। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যেই জন্ম হয় শিশুটির। তবে জন্মের প্রায় দেড় বছর পর মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর শিশুটির স্থান হয় দেশটির সরকারি সোশ্যাল কেয়ারে।

‎পরবর্তীতে সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন মা ও বাবা। কিন্তু আদালত মনে করেন, শিশুটি মা কিংবা বাবার কাছে নয়, তার দাদির কাছে সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে। ফলে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়, ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবে এবং মা সন্তানের জন্য উপহার পাঠাতে পারবেন।

‎২০১৬ সালে শিশুটি যুক্তরাজ্য থেকে চট্টগ্রামে দাদির কাছে চলে আসে এবং সেখানেই বেড়ে উঠতে থাকে। প্রথমদিকে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও একসময় সেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন সন্তানের কোনো খোঁজ পাননি মা।

‎সন্তানের সন্ধানে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আসেন তিনি। তখন ছেলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারলেও আইনি জটিলতার কারণে দেখা করতে পারেননি। পরে তিনি আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে গিয়ে সেখানকার এবং বাংলাদেশের আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। কয়েকজন আইনজীবী মামলা করার পরামর্শ দিলেও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম তাকে মামলা না করে লিগ্যাল এইডের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ, আদালতে মামলা করলে নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।

‎পরবর্তীতে গত ১৭ মে তিনি অনলাইনে লিগ্যাল এইড চট্টগ্রাম কার্যালয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি যুক্তরাজ্যের আদালতের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান।

‎লিগ্যাল এইড চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তার পিএ মোহাম্মদ এরশাদুল ইসলাম জানান, আবেদনটি গ্রহণের পর বিচারকের নির্দেশে উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়। সোমবার (২২ জুন) দুই পক্ষ লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে উপস্থিত হন। মা বিশেষভাবে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসেন এ শুনানিতে অংশ নিতে।

‎শুনানিতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নির্ধারণ করা হয়। শর্ত অনুযায়ী, মা ও সন্তানের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে দুই পক্ষই সচেষ্ট থাকবে। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা অনলাইনে সন্তানের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন মা। বর্তমান অভিভাবকেরা মা-ছেলের সম্পর্ক গড়ে তুলতে শিশুটিকে উৎসাহিত করবেন। মা দেশে এসে দেখা করতে চাইলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সুবিধাজনক স্থানে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হবে।

‎এ ছাড়া বিশেষ দিবস বা উৎসবে মা দেশে থাকলে সরাসরি এবং দেশে না থাকলে অনলাইনে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারবেন কিংবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপহার পাঠাতে পারবেন। একই সঙ্গে শিশুর মানসিক বিকাশের স্বার্থে কোনো পক্ষই এমন কোনো আচরণ করবেন না, যা তার মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

‎উভয় পক্ষ এসব শর্ত মেনে নেওয়ার পরই ঘটে বহু প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত। ১০ বছর পর ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন মা। এ সময় লিগ্যাল এইড কার্যালজুড়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

‎শিশুটির চাচা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে তার দাদি লালন-পালন করছেন। সে দাদির কাছে ভালো আছে। বিষয়টি আমরা লিগ্যাল এইডের বিচারককেও জানিয়েছি। আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা তা মেনে চলছি।

‎এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে আমরা কোনো ঠিকানা পরিবর্তন করিনি। শিশুটির মা যখনই যোগাযোগ করেছেন, আমরা সাড়া দিয়েছি।

‎জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী জজ) সুব্রত দাশ বলেন, যুক্তরাজ্যের আদালতের রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিষয়টির আপস-মীমাংসা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুটির সর্বোচ্চ কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

‎অন্যদিকে, পুনর্মিলনের তারিখ জানতে পেরে যুক্তরাজ্য থেকে দ্রুত বাংলাদেশে ছুটে আসেন শিশুটির মা। সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ১০ বছর পর আমার ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেছি। এর চেয়ে বড় সুখ আমার জীবনে আর কিছু নেই।

‎এতদিন দেশে না আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের পর কিছুদিন অনলাইনে যোগাযোগ ছিল। পরে অনেক চেষ্টা করেও তাদের খুঁজে পাইনি। করোনা পরিস্থিতি ও অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার কারণেও দেশে আসা সম্ভব হয়নি। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আমার সন্তানের সাক্ষাৎ পেয়েছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com