এই উপ-মহাদেশে ছাত্রসংঠনের আবেদন খুবই গ্রহণযোগ্যতা পায় ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকেই। সাধারণ মানুষের কন্ঠ হয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো কাজ করার মধ্য দিয়ে সর্বজনীন হয়ে ওঠে।
স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্র ছাত্রসমাজ তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বনামধন্য ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ভবতোষ দত্ত ১৯৪৩ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছিলেন।
আট দশক ( কলকাতা, ১৯৮৮; তৃতীয় মুদ্রণ ১৯৯৫) নামে প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথায় তখনকার কথা বলেছেন এভাবে : ” ছাত্ররা আমাদের অত্যন্ত সমাদরে গ্রহণ করেছিলেন।
আমরা মুসলমান নই বলে যেন কোনো আঘাত না পাই তারও চেষ্টা করতেন।
প্রায় সব ছাত্রই অবশ্য লীগপন্থী। পাকিস্তানকামী। মুসলমান শিক্ষকেরাও তাই। তবে কলেজ ইউনিয়নের নির্বাচনে দুটো দল হতো একটি বাংলাভাষীর দল আর অন্যটা উর্দুভাষীর দল। উর্দুভাষীরা নিজেদের একটু বেশি কুলীন মনে করতেন। কিন্তু বাংলাভাষীদের সংখ্যা ছিল বেশি।
এই বাংলাভাষী দলের নেতা ছিল একটি কৃশকায় ছেলে – নাম শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নীতি শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিতই ছিল।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে সফল হয়েছিলেন।
ইসলামিয়ার ছাত্ররা যে আমাদের জন্য কতটা করতে পারত তার প্রমাণ পেলাম ১৯৪৬-এর রক্তাক্ত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়। বালিগঞ্জ থেকে ইসলামিয়া কলেজের রাস্তায় পদে পদে বিপদ। এই রাস্তা আমাদের ছাত্ররা পার করে দিত।ওল্ড বালিগঞ্জের কাছে অপেক্ষা করত আর সেখান থেকে ওয়েলেসলি স্ট্রিটে কলেজে নিয়ে যেত। আবার সেভাবেই ফিরিয়ে দিয়ে যেত। ‘ (পৃ.১১৭)বইয়ের অন্যত্র তিনি আবার উল্লেখ করেছেন দাঙ্গার সেই দিনগুলোর কথা: ‘এখানে কৃতজ্ঞিত্তে স্মরণ করি ইসলামিয়া কলেজের সেইসব মুসলমান ছাত্রদের যাঁরা আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে বিপজ্জনক এলাকাটা পার করে দিতেন। এইসব ছাত্রের একজনের নাম ছিল শেখ মুজিবুর রহমান। ‘(পৃ.১৭৭)।
উল্লেখপূর্বক বলাবাহল্য যে, স্কুলের পাঠ চুকিয়ে তিনি যখন কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হলেন ( বর্তমানে মাওলানা আজাদ কলেজ) । কলকাতায় এসে যোগ দেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে।
তিনি স্কুল জীবনে সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন সোহরাওয়ার্দীর। সুভাষ চন্দ্র বসুর আন্দোলন সম্পর্কে জেনেছেন এবং উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
কলকাতায় পড়তে এসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সংস্পর্শে আসেন। মহাত্মা গান্ধী ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র সাক্ষাৎ পান। যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
শেখ মুজিবুর রহমান কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন অতঃপর ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি হন।
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সমর্থন দেওয়ার কারণে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করে।
এর আগে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ভাষা আন্দোলনের রুপকার শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রথম ধাপ অত্রিক্রম করেন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জেলখানায় থাকাকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
“মুজিব বাংলার বাংলা মুজিবের ” গ্রন্থে শেখ হাসিনা তাঁর উল্লেখ করেছেন –
‘ছাত্রজীবন থেকেই এই বাংলার দরিদ্র -শোষিত -বঞ্চিত মানুষের দুঃখ -যাতনা তাঁকে নাড়া দিত। যে মানুষগুলো দিনের পর দিন একবেলা খাবার জোগাড় করতে পারত না, মাথা গোঁজার ঘর ছিল না, যেখানে মায়ের কোলে রোগে -শোকে ধুঁকে ধুঁকে শিশুর মৃত্যু হতো, এক ফোঁটা ঔষুধ জুটত না, শরীরে হাড়-চামড়া ছাড়া কিছুই ছিল না, হাড্ডিসার কঙ্কালসম দেহ- এসব বঞ্চিত -নিগৃহীত মানুষের মুক্তির দূত হিসেবে তাঁর আগমন ঘটেছিল।
তাঁর জন্ম হয়েছিল বাঙালির মুক্তির জন্য, একটি স্বাধীন -সার্বভৌম দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য, বিশ্বসভায় একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে বাঙালি জাতিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তিনি সফল হয়েছেন।’
স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য লক্ষ্যে তিনি চেয়েছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তি। ” বাংলার মানুষ অন্ন পাবে, বস্ত্র পাবে, উন্নত জীবন পাবে, ” – এই ছিল তাঁর প্রত্যয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর নিজ হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগ উপ-মহাদেশের প্রাচীনতম ছাত্র সংগঠন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা ও সংস্কৃতি আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয়-দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সর্বত্র বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ” ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস ” আর তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন – ‘ ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস। ‘
আদর্শিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ, ছাত্র ও শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক হয়ে লড়াই করার সেই গৌরবময় সংগ্রামের সম্মুখভাগে আত্মদান করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১৭ হাজার নেতা-কর্মী।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধীচক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। ৭৫-পরবর্তী মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হওয়া বাংলাদেশে আত্মদানের এই মিছিল কেবল দীর্ঘ হয়েছে, কিন্তু থেমে থাকেনি প্রতিরোধ।
একটি সফল গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক নির্দেশ প্রতিপালন করেছে।
১৯৯৮ সালের ভয়ংকর বন্যা মোকাবেলায় খাদ্য দুর্যোগের ভবিষ্যৎ বাণী ভুল প্রমাণ করার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ কর্মীরা দৈনিক তিন শিফটে রুটি তৈরি করেছে, তৈরি করেছে খাবার স্যালাইন, বিতরণ করেছে উপদ্রুত এলাকায়।
নিরক্ষরতা দূরীকরণে, পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ গঠন করার কাজে এবং বৃক্ষরোপণে এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
শিক্ষাঙ্গনের পাশাপাশি ছাত্রলীগ সাধারণ আপামর মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছে। ঝড়-বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, দুর্যোগ-দুর্বিপাকে মানুষের পাশে ছাত্রলীগ।
কৃষকের ধান কাটার সংকটময়কালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কৃষকের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকের ধান কাটা থেকে শুরু করে মাড়াই করে কৃষকের গোলায় পর্যন্ত ওঠানোর কাজে কৃষকের পাশে ছাত্রলীগ।
করোনা অতিমারীর সময়ে ছাত্রলীগ নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে মানুষের পাশে ছিল। ইতিহাসের প্রয়োজনে যে ছাত্রলীগের জন্ম হয়েছিল সেই ছাত্রলীগ আজও তার স্বমহিমায় টিকে আছে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে অনেক সময়েই দেখা যায় জ্ঞানপাপীরা ছাত্রদলকে তুলনা করে গুলিয়ে ফেলে। অথচ ছাত্রলীগ বাংলাদেশ জন্মের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আর ছাত্রদলের জন্ম হয়েছে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য। অবৈধশাসক, খুনি জিয়াউর রহমানের অস্ত্রের ঝনঝনানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
ছড়িয়ে দিতেই ছাত্রদলের জন্ম হয়।
জাতি রাষ্ট্রের মহান স্রষ্টা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পরবর্তী বাংলাদেশে হত্যা ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করাসহ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতি অর্জনের যে ধারাবাহিক সংগ্রাম এবং সাফল্য তার নেতৃত্বে রয়েছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ, তাঁরই কন্যা, জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রতিটি সংগ্রামে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।
১/১১ পরবর্তী চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় -অবিচারের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে পুরো বাংলাদেশে জনমত গড়তে এবং ইতিহাস, ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক ধারায় উজ্জ্বীবিত হয়ে স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে স্বাধীনতা বিরোধীচক্র যে রাজনৈতিক অপতৎপরতা তথা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু, রাজনৈতিকভাবে অক্ষম এবং আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সেদিন তারা যে মরণ কামড় দিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেদিনও ইতিহাসের বরপুত্র হিসেবে সেই কঠিন দুঃসময়ে মেধা, শ্রম ও ধৈর্য্যের সমন্বয়ে দেশ বিরোধীচক্র শক্তভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় আজও গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তির সংগ্রামে জননেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনার নিরন্তর সংগ্রামের সারথী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আদর্শিকভাবে উজ্জ্বীবিত এবং সাংগঠনিকভাবে সুশৃঙ্খল একটি কর্মী বাহিনী যে কোন সংগঠনের জন্য ঈর্ষণীয় মানব সম্পদ।
অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে প্রায়। বিশেষ করে তারা দেশ বিরোধীচক্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। বাম-ডান একাকার হয়ে আজ তারা ক্ষমতার লোভে হিংস্র হায়নার মতো আচরণ করছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার পরিবেশ ব্যহত করতেও তারা দ্বিধাবোধ করছে না। দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে তারা দেশকে গভীর সংকটের দিকে নিতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ যখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এবং বহিঃবিশ্বের কাছে উন্নয়ন ও শান্তির রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃতি বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তির রোল মডেল।
স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একাধারে দেশ পরিচালনা করার কারণে দেশের মানুষ ইতিমধ্যেই সুফল পেতে শুরু করেছে। তখনই অপশক্তি বাংলাদেশের উপর ভর করেছে। বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই সন্নিকটে এই সময়কে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে অপশক্তি এবং তাদের ছাত্রসংগঠন।
কোভিট-১৯ মহামারী, রাশিয়া -ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনীতির এতো সংকটময়ও বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বের ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
শতভাগ বিদ্যুতায়নের দেশ এখন দক্ষিণ এশায় প্রথম বাংলাদেশ। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, মিয়ানমার ও ভারত থেকে আরেকটি বাংলাদেশের সমান সমুদ্রসীমা বিজয়। ৬৮ বছরের ছিটমহল সমস্যার সমাধান। সাবমেরিন জাহাজ সমুদ্রসীমার অতন্দ্র-প্রহরী হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে।
পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম বঙ্গবন্ধু ট্যানেল নির্মাণ। কক্সবাজারে সমুদ্রের বুকে আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর নির্মাণ, হযরত শাহজালাল( র) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ, ঢাকার বুকে যানজট নিরসনে মেট্রোরেল নির্মাণ, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম চৌদ্দ লেনের মহাসড়ক নির্মাণ। উন্নত জীবনযাপন ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য পেনশন স্ক্রীম চালু করেছে বাংলাদেশ।
বিশ্ব ব্যাংকের মিথ্যা অপবাদকে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন। পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উদিয়মান অর্থনীতির ১৭তম দেশ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়ার এই মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সমস্ত অপশক্তির মুখে ছাঁই দিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনার চলার পথকে মসৃণ রাখতে জাতির পিতার আদর্শকে বুকে ধারণ করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ছাত্রলীগের ছাত্রসমাবেশ থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যে বার্তা ছাত্রসমাজের প্রতি দিয়েছেন তা ছাত্রলীগ সমগ্র বাংলাদেশে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রসমাজের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
স্মার্ট বাংলাদেশের সম্মুখ সারির সারথী হিসেবে ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবে ইনশাল্লাহ।
অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর সমাদর দেশের মানুষের কাছে তেমন একটা না থাকলেও ছাত্রলীগের আবেদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে স্বাধীনতাবিরোধীচক্র বিএনপি-জামাতের ছাত্রসংগঠনগুলো যখন শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ এবং শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করার কাজে লিপ্ত তখন ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন ” শুধু ভাল কর্মী হলেই চলবে না, ভাল ছাত্রও হতে হবে।”
” উচ্চ আদর্শ এবং সাদামাটা জীবনযাপন – এই হোক তোমাদের জীবনাদর্শ “।
” তোমাদের হাতে আমি বই,খাতা ও কলম তুলে দিলাম “
অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রদলের হাতে বই, খাতা, কলমের পরিবর্তে অর্থ ও অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। একই কাজ করেছিলেন তার স্বামী অবৈধশাসক জিয়াউর রহমান।
জামাতের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরেরও একই অবস্হা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের রগ কাটা হচ্ছে তাদের আদর্শ।
জাতির পিতার জীবনযৌবনের উত্তাপে গড়া সংগঠনের নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উদ্যোগে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা মহীয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব স্মরণে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাবেশে পাঁচ লক্ষাধিক ছাত্রদের উপস্হিতি প্রমাণ করেছে ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস।
বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ এবং ছাত্রলীগ একই সূত্রে গাথা। ছাত্রলীগের আবেদন সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে একবিন্দুও যে কমেনি তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ১ সেপ্টেম্বরের ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক ছাত্রসমাবেশ।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাপিয়ে ছাত্রসমাবেশ পুরো ঢাকার শহরে ছড়িয়ে পরে।ঢাকা পরিণত
হয় উৎসবের নগরীতে। চতুর্দিকে সাজ সাজ রব, নানা রঙের ফেস্টুন, উন্নয়ন, শান্তির বার্তা, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের এ এক আগাম বার্তা।
আওয়ামী লীগের প্রতি, নৌকার প্রতি এবং শেখ হাসিনার প্রতি তরুণদের যে, আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছাত্রলীগের ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাবেশ।
সমস্ত অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাবেশের প্রধান অতিথি হিসাবে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি , বঙ্গবন্ধুান্যা দেশরত্ন জননেত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি
ছাত্রদের উদ্দেশ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেছেন তা ছাত্রসমাজের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা, সৎ সাহস, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম এবং মেধা- বিকাশে খুবই সাফল্য বয়ে আনবে বলে মনে করা হয়।
স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ছাত্রসমাবেশে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এ সমাবেশে সাধারণ ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বর্তমান সময়ের জন্য খুবই ইতিবাচক। কারণ বর্তমানে অনেকাংশেই দেখা যায় মানুষের মাঝে ছাত্রসংগঠনের প্রতি বিরুপ ধারণা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই নেতিবাচক ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে ছাত্রলীগ।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ছাত্রসমাবেশ সমাজের মধ্যে এই বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে যে, স্বদেশ প্রেম, সততা, নেতৃত্বগুণ এবং মানবিক ছাত্র সংগঠনের সমাদর একবিন্দুও কমেনি।
বাংলা এবং বাঙালির সংগ্রাম, স্বপ্ন, সাফল্য এবং সাহসের সারথী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আজও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুতি হয়নি,তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাবেশ। বাংলার ছাত্রসমাজের অকৃত্রিম বন্ধু হিসাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইতিহাসের বাঁকে-বাঁকে ছিল আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাল্লাহ।
এইচ এম মেহেদী হাসান
কলামিস্ট, সাংবাদিক এবং
সাবেক সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
Leave a Reply