1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সেই ওষুধটি বহাল রাখাই ছিল ‘স্লো পয়জন’: খালেদা জিয়ার চিকিৎসক - দৈনিক আমার সময়

সেই ওষুধটি বহাল রাখাই ছিল ‘স্লো পয়জন’: খালেদা জিয়ার চিকিৎসক

অনলাইন ডেক্স
    প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ (ইচ্ছাকৃত অবহেলা) হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে খালেদা জিয়ার লিভারের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল কিনা, সে প্রশ্ন অনেকে করেন।আমার উত্তর হলো, মেথোট্রেক্সেট সেই ওষুধ, যেটা তার ফ্যাটি লিভার অসুখ বাড়িয়েছিল এবং সেটা লিভার সিরোসিসে নিয়ে গিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে এটা তার লিভারের জন্য ‘স্লো পয়জন’ ছিল।

খালেদা জিয়া ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড–১৯ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তারা, বর্তমান মেডিক্যাল বোর্ড, তার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানান অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী।”

এর পর থেকে গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত তার চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের তত্ত্বাবধানে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে আমরা অত্যন্ত বিস্ময় ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করি যে ম্যাডাম লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত। অথচ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসার ছাড়পত্রে তার জন্য আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় মেথোট্রেক্সেট (Methotrexate) নামের একটি ট্যাবলেট নিয়মিত সেবনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ভর্তি থাকা অবস্থাতেও তাকে এই ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এই ওষুধটি বন্ধ করে দিই।”

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘ম্যাডাম রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং রিউমাটোলজিস্টদের পরামর্শে তিনি এই ওষুধটি সেবন করছিলেন। এর পাশাপাশি তার এমএএফএলডি (মেটাবোলিক অ্যাসোসিয়েটেড ফ্যাটি লিভার ডিজিজ) ছিল।’

এফএম সিদ্দিকী বলেন, এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ম্যাডামের লিভারের অসুখ নির্ণয় করা খুবই সহজ একটি বিষয় ছিল; এর জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। মেথোট্রেক্সেট সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তে লিভার ফাংশনের কয়েকটি উপাদান পরীক্ষা করা জরুরি এবং অস্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেলে ওষুধটি বন্ধ করে ন্যূনতম পেটের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করে লিভারের অবস্থা যাচাই করা আবশ্যক। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ম্যাডামের লিভার ফাংশন টেস্ট (যকৃতের কার্যকারিতা পরীক্ষা) খারাপ দেখার পরেও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকেরা একটি আলট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি এবং এমটিএক্স (মেথোট্রেক্সেট) বন্ধ করেননি।”

তৎকালীন চিকিৎসকদের ওপর আস্থার অভাবে খালেদা জিয়া সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে রাজি হননি উল্লেখ করে এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘কিন্তু অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় তার আস্থাভাজন চিকিৎসকের মাধ্যমে শয্যার পাশে (পয়েন্ট অব কেয়ার আলট্রাসাউন্ড–পিওসিইউএস সহজেই করা যেত। অন্ততপক্ষে এমটিএক্স বন্ধ করে দেওয়া ছিল অবশ্যকর্তব্য।

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ দেশের লাখোকোটি মানুষের বুকের ভেতরে এক গভীর আফসোস—সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের ভোটাধিকারের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা মানুষটি যদি আর কিছু দিন বেঁচে থাকতেন! যদি তিনি দেখতে পেতেন, মানুষ নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন”

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এ ধরনের অবহেলা, লিভার ফাংশনের দ্রুত অবনতি তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি উইলফুল নেগলিজেন্স বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটি তাকে হত্যার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া তার ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে রয়েছে।

এ বিষয়ে আইনগতভাবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অধ্যাপক এ এম সিদ্দিকী। ওই তিনটি বিষয় হলো—ক. সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কিনা। খ. ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক তার চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না। গ. মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা চলাকালে খালেদা জিয়া আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন—সে ক্ষেত্রে কেন তা হয়নি এবং কারা এতে বাধা দিয়েছিল?

এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এফএম সিদ্দিকী।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com