শিশুর মানসিক বিকাশে সৃজনশীলতা ও সৃজনশীল শিক্ষকের ভূমিকাশিশুর মানসিক বিকাশ একটি ধারাবাহিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এই বিকাশে সৃজনশীলতা একটি শক্তিশালী উপাদান হিসেবে কাজ করে। সৃজনশীল শিক্ষা শিশুর চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করে, কল্পনাশক্তিকে জাগ্রত করে এবং নতুন কিছু জানার ও শেখার আগ্রহ সৃষ্টি করে। ফলে শিশু কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলো সমাধানে সক্ষম হয়ে ওঠে।
সৃজনশীল শিক্ষা শিশুকে প্রশ্ন করতে শেখায়, বিশ্লেষণ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং নিজের মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা গড়ে ওঠে। একই সঙ্গে এটি শিশুর মানসিক চাপ কমিয়ে শেখাকে আনন্দময় করে তোলে।
এ ক্ষেত্রে একজন সৃজনশীল শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সৃজনশীল শিক্ষক শ্রেণিকক্ষকে আকর্ষণীয় ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলেন। তিনি পাঠ্যবই নির্ভরতার বাইরে গিয়ে বাস্তব উদাহরণ, গল্প, চিত্র, খেলাধুলা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঠদান করেন। এতে শিক্ষার্থীরা সহজে বুঝতে পারে এবং দীর্ঘ সময় মনে রাখতে সক্ষম হয়।
শুধু পাঠদান নয়, একজন সৃজনশীল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা তৈরি করেন। তিনি তাদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করেন এবং ভুলকে শেখার অংশ হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তোলেন। ফলে শিশুরা ভয়হীন ও মুক্ত পরিবেশে শিখতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, শিশুর মানসিক বিকাশে সৃজনশীল শিক্ষা ও সৃজনশীল শিক্ষকের ভূমিকা অপরিহার্য। একটি আনন্দময়, সৃজনশীল ও সহায়ক শিক্ষাব্যবস্থা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ, মানবিক ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
লেখক- ইসরাত জাহান নীলা
সহকারী শিক্ষক
সাহেদ আলী সপ্রাবি।
Leave a Reply