মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা শুধু পারিবারিক আবেগ নয়, এটি একটি জাতির নৈতিকতারও প্রতিচ্ছবি। কারণ যে সমাজ মাকে সম্মান করতে শেখে, সে সমাজ মানুষকেও সম্মান করতে শেখে। একজন মা যেমন একটি সন্তানের প্রথম বিদ্যালয়, তেমনি একটি মানবিক রাষ্ট্রেরও প্রথম ভিত্তি পরিবার।
কিন্তু সময়ের বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে, যোগাযোগ বেড়েছে, আয়োজন জাঁকজমকপূর্ণ হয়েছে, অথচ অনেক ক্ষেত্রে মানবিকতা সংকুচিত হয়েছে। মা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস কিংবা অন্যান্য সামাজিক ও আন্তর্জাতিক দিবস এখন প্রায়ই আনুষ্ঠানিকতা, ব্যানার আর প্রদর্শনীর ভিড়ে আটকে যায়। মূল শিক্ষা ও মূল্যবোধ আড়ালে পড়ে থাকে।
রাজনীতির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষকে একত্রিত করা। সমাজে সম্প্রীতি, দায়িত্ববোধ ও নৈতিক চেতনা গড়ে তোলা। কারণ একটি রাজনৈতিক দল কেবল ক্ষমতার সংগঠন নয়, এটি একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানও। তারা চাইলে দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে পাড়া মহল্লায় মানবিকতা, পারিবারিক বন্ধন, প্রবীণদের সম্মান, শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সৌহার্দ্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে।
ধর্মও মানুষকে সেই শিক্ষাই দেয়। ইসলামে মায়ের মর্যাদা জান্নাতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ইতিহাসের মহান ব্যক্তিরাও মায়ের প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধাকেই জীবনের শক্তি হিসেবে দেখেছেন। কারণ তারা বুঝতেন, একজন সৎ মানুষ তৈরির পেছনে একজন ত্যাগী মায়ের নীরব অবদান থাকে।
আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আনুষ্ঠানিকতার নয়, আত্মসমালোচনার। আমরা কি সত্যিই পরিবারকে সময় দিচ্ছি? প্রবীণদের সম্মান করছি? নতুন প্রজন্মকে মানবিকতা শেখাচ্ছি? যদি না শিখাই, তাহলে বড় বড় আয়োজনও সমাজকে সুস্থ করতে পারবে না।
দেশপ্রেম শুধু স্লোগানে নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধে প্রকাশ পায়। আর মা দিবসের প্রকৃত শিক্ষা এখানেই, মানুষ যেন মানুষকে আপন করে নিতে শেখে। কারণ একটি সভ্য জাতির সবচেয়ে বড় পরিচয় তার অর্থনীতি নয়, তার মানবিকতা।
Leave a Reply