1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
‎এবার বর্ষাকালে চট্টগ্রাম শহর ৭০-৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত থাকবেঃচট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সেমিনারে মেয়র ডা. শাহাদাত - দৈনিক আমার সময়

‎এবার বর্ষাকালে চট্টগ্রাম শহর ৭০-৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত থাকবেঃচট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সেমিনারে মেয়র ডা. শাহাদাত

জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

এবারের বর্ষাকালে চট্টগ্রাম নগরী ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, আমি এখানে কোনো নিরাশা দেখি না। শুধু একটি বিষয়কে ভয় পাচ্ছি, সেটি হলো জোয়ার—যেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।

‎শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে আয়োজিত চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা : সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎মেয়র বলেন, আপনাদের কি মনে নেই ২০২২, ২০২৩ এমনকি ২০২৪ সালেও বর্ষার সময় বহদ্দারহাট থেকে মানুষ বের হতে পারেনি? তখন পানি জমে পুরো এলাকা অচল হয়ে যেত। কিন্তু ২০২৫ সালে কি সেই অবস্থা ছিল? মানুষ বের হতে পেরেছে, আগের মতো কষ্ট পেতে হয়নি। কাজেই উন্নতি হয়েছে। এত নিরাশ হওয়ার কিছু নেই।

‎তিনি আরও বলেন, ২৩-২৪ সালে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুর ও চকবাজার এলাকায় মানুষ পানির কারণে দুর্ভোগে পড়েছিল। কিন্তু গত বর্ষায় সেই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। তাই নগরবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, চিন্তার কোনো কারণ নেই।

‎নগরবাসীর সেবায় কোনো ধরনের আপস করেননি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বহদ্দারহাটে নালার ওপর নির্মিত একটি বড় মার্কেট থেকে সিটি কর্পোরেশন প্রায় ২০ লাখ টাকা ভাড়া পেত। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণ হওয়ায় আমি এক সিদ্ধান্তেই সেটি ভেঙে দিয়েছি। এর ফলেই বহদ্দারহাটে এখন আর আগের মতো পানি জমে না।

‎ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এখন আমাদের প্রস্তুতি ছয় মাসের বর্ষা মাথায় রেখেই নিতে হচ্ছে। আগে বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ ছিল, কিন্তু এখন আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বর্ষা থাকে। গত বছর জুন থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। তাই এবারও জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।

‎জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, যারা ৬ হাজার কোটি ও ৯ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছিল, তারা সিটি কর্পোরেশনকে এড়িয়ে জোর করে কাজ নিয়েছে। পরে সক্ষমতার অভাবে সেনাবাহিনীকে যুক্ত করতে হয়েছে। বর্তমান সিডিএ চেয়ারম্যান নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তিনি অত্যন্ত সৎ মানুষ। এখানে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দোষ দেওয়ার সুযোগ নেই।

‎চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারের উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম এবং এনটিভির ব্যুরো প্রধান শামসুল হক হায়দরী।

‎প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়ার মো. আরিফ ও চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটনের যৌথ সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আল আমিন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আয়েশা খানম এবং বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মনজুরুল কিবরিয়া।

‎বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে। খাল-নালা দখলমুক্ত করা এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি খাল ও নালায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।

‎আলোচনায় অংশ নেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস এম নসরুল কদির, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার মজুমদার, ফোরাম ফর প্ল্যানড চট্টগ্রামের সভাপতি প্রফেসর ড. সিকান্দর খান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহ নওয়াজ, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, রাশিয়ার অনারারি কনসালটেন্ট স্থপতি আশিক ইমরান, ঈসা আনসারী, অভিক ওসমানসহ আরও অনেকে।

‎সেমিনারে বক্তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল—নালা ও খালে ময়লা ফেললে জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ খাল ও নালায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পলিথিনমুক্ত নগর গড়ে তোলা।

‎এসময় উপস্থিত ছিলেন সেমিনার আয়োজন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সেলিম ও আবুল হাসনাত, উপ-কমিটির সদস্য ডেইজি মওদুদ, মো. শহিদুল ইসলাম, আরিচ আহমেদ শাহ, আবু মোশারফ রাসেল, ফারুক আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ আজাদ, জামাল উদ্দিন হাওলাদার, জাহাঙ্গীর আলম, ইসমাইল ইমন, তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, মনিরুল ইসলাম মুন্না ও বাকি বিল্লাহসহ অনেকে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com