আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার, হত্যার দায় স্বীকার
২৪ মে ২০২৬ রংপুরের পীরগঞ্জ থানার বহুল আলোচিত ট্রান্সফর্মার চুরি ও মফিজার রহমান (৪৬) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূল সদস্যসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ও ট্রান্সফর্মার চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এর সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে।গত ২৩ মে থেকে ২৪ মে ২০২৬ পর্যন্ত রংপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পীরগঞ্জ থানার মামলা নং-১৩, তারিখ ০৭/০৫/২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪/৩৭৯ পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—১. মোঃ জামিরুল ইসলাম (৩২)২. মোঃ আব্দুল জলিল (৩৮)৩. মোঃ সবদুল আকন্দ ওরফে শামিম (৩৪)৪. আঃ ওয়াহাব ওরফে শফিকুল৫. মোঃ নূরুল আমিন (৬৮)৬. মোঃ আনিছুর রহমান (৪০)৭. মোঃ আমিরুল ইসলাম সরদার (৫৫)পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা মফিজার রহমানকে হত্যা করে ট্রান্সফর্মার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি নোয়া মাইক্রোবাস, একটি সিএনজি অটোরিকশা, ট্রান্সফর্মার চুরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং তিনটি ট্রান্সফর্মারের ভেতরে থাকা চোরাই তামার কয়েল উদ্ধার করে।
পুলিশের দাবি, এটি ছিল অত্যন্ত রহস্যজনক ও ক্লুলেস একটি হত্যা মামলা। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রংপুরে যোগদানের পর বেশ কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামিদের গ্রেফতারে সফলতা অর্জন করেছেন। বর্তমান ঘটনাটিকেও চলতি মাসে রংপুর জেলা পুলিশের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে পূর্ণাঙ্গ পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।
Leave a Reply