রংপুর উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু ফল হাড়িভাঙ্গা আম ঘিরে ১৫ জুন ২০২৬ সালের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে রংপুরের বাগান ও হাট-বাজারে। বিশেষ করে মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে গাছে গাছে ঝুলছে সবুজ-হলুদ রঙের রসালো হাড়িভাঙ্গা আম। সরকারি বিধি মতে আজ ১৫ জুন ২০২৬ এ বাজারে হাড়ীভাঙ্গা আম বাজারে বিক্রির অনুমোদন দিয়ে শুভ উদ্বোধন করেন কৃষি কর্তৃপক্ষসহ রংপুর জেলা প্রশাসক।কৃষক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এবারও এই আম ঘিরে জমে উঠবে কয়েকশ কোটি টাকার বাণিজ্য।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ৫৬৭ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পরিচর্যার কারণে ৪০ থেকে ৪১ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে, যা গত বছরের উৎপাদনকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর আঁশবিহীন শাঁস, মিষ্টি স্বাদ, মনোমুগ্ধকর সুগন্ধ এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের সক্ষমতা। এসব গুণের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এ আমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ, খোড়াগাছ, রংগাতিপাড়া, টেকানী, শিকারপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রংপুরের পাশাপাশি গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতেও এর আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে। স্থানীয় আমচাষিদের ভাষ্য, হাড়িভাঙ্গা শুধু একটি ফল নয়, এটি এখন রংপুরের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতি মৌসুমে হাজারো শ্রমিক বাগান পরিচর্যা, সংগ্রহ, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় কর্মসংস্থানেরও বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়।কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাবনাময় এই আমের জন্য আধুনিক সংরক্ষণাগার, মানসম্মত প্যাকেজিং এবং রপ্তানি সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।
রংপুরের মানুষের কাছে হাড়িভাঙ্গা আম কেবল একটি মৌসুমি ফল নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্য, গৌরব ও সম্ভাবনার প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও মধুমাসে এই আমের সুবাসে মুখর হয়ে উঠেছে রংপুর, আর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে এর অতুলনীয় স্বাদের খ্যাতি।
Leave a Reply