1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
মঙ্গলবার থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আভাস, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে - দৈনিক আমার সময়

মঙ্গলবার থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আভাস, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

অনলাইন ডেক্স
    প্রকাশিত : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬

আজও কুয়াশায় ঢাকা সারা দেশ। কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে জনজীবন। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। গত তিন দিন ধরেই চলছে শৈত্যপ্রবাহ। শুক্রবারও ২১টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ঘিরে নেয়। বৈরী আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। এর মাঝেই শীত নিয়ে আবারও দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে দেশে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহও দেখা দিতে পারে। তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসে দেশের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই-তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি তাপমাত্রার (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক-দুইটি শৈত্য প্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে টানা এই শীতের দাপটে শহর-গ্রামে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথঘাট, যার প্রভাব পড়ছে বিমান থেকে শুরু করে সড়ক ও নৌ-যোগাযোগেও। গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়েছে। ঢাকার ৯ ফ্লাইট চলে যায় চট্টগ্রাম-কলকাতা-ব্যাংককে। সড়কে বহু যান বাহন দুর্ঘটনাকবলিত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিন ধরেই দেশে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। গতকালও সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ রয়েছে। প্রথম দিন ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল, খুলনা বিভাগসহ আরো কয়েকটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল, পরে তা কিছুটা কমেছে। ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবার শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে এবং দু-একটি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহও হতে পারে। গতবারের তুলনায় এবার শীত বেশি পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া আজ মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু জায়গা থেকে তা প্রশমিতও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

“আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, আজ শনিবারও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী: মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের কোথাও কোথাও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।”

অন্যদিকে, মৌসুমি লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। আপাতত দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই; আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। গতকাল সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮-১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৫ দিনের বর্ধিত অবস্থায় তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়েই কনকনে শীতের আমেজ বজায় থাকবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com