১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থা, যা দেশীয় ও আমদানিকৃত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে । ভোক্তাদের সচেতন করতে বিএসটিআই সাধারণত বিভিন্ন স্লোগান ব্যবহার করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো:
(১). মানসম্মত পণ্য ক্রয় ও ব্যবহারে সচেতন হোন।
(২). বিএসটিআই-এর মানচিহ্নিত পণ্য ব্যবহার করুন, নিজে সুস্থ থাকুন ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।
(৩). প্রতারণা হতে বাঁচতে সঠিক ওজন ও পরিমাপ বুঝে নিন। এছাড়াও বিএসটিআই মূলত পণ্য, সেবা, পদ্ধতি ও ওজনের মান প্রণয়ন ও পরিদর্শনের কাজ করে।
অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে বিএসটি বেশ কিছু সফলতা অর্জন করেছে, যেমন:
(১). খাদ্য ও পানীয়: ভেজাল বিরোধী নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ভোজ্যতেল, লবণ, গুঁড়ো দুধ, পানি, ও কোমল পানীয়র মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপদতা নিশ্চিতকরণে তারা বড় সাফল্য ।
(২).ওজন ও পরিমাপ: ডিজিটাল যন্ত্রের ব্যবহার তদারকি এবং পেট্রোল পাম্প, বাজার ও বিভিন্ন দোকানে সঠিক ওজন বা পরিমাপ (বা ‘b’ মার্কের সঠিক ব্যবহার) নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে ।
(৩). ইলেকট্রিক্যাল ও নির্মাণসামগ্রী: দেশে উৎপাদিত বা আমদানিকৃত ইলেকট্রনিক্স পণ্য, কেবল, সিমেন্ট ও রডের বাধ্যতামূলক মান পরীক্ষা ও সনদ প্রদানের মাধ্যমে মানহীন নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা রোধে তারা বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
(৪). প্রসাধন সামগ্রী ও কেমিক্যাল: সাবান, শ্যাম্পু, ত্বকের ক্রিম এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্যের ক্ষতিকারক উপাদানের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিএসটিআই -এর লাইসেন্স গ্রহণ এখন দেশীয় শিল্পের জন্য একটি মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকগণ মনে করেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, রাষ্ট্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ অফিসের কার্যক্রম গত নোয়াখালী-ফেনী-লক্ষ্মীপুর অফিস সূত্রে, তাদের অফিসিয়াল কার্যক্রম ২০২৩ সালের শেষে ২০২৫ সালে শুরুতে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক নোয়াখালীতে অবস্থিত আঞ্চলিক কার্যালয়টি পরিদর্শন করেন। নোয়াখালী দত্তেরহাটে ভাড়া অফিসে শুরু হয়েছে। স্থান পরিদর্শনে, জনবল ঘাটতি,স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়া এবং যাতায়াতের জন্য সরকার নিয়মিত না থাকায় অফিস পরিচালনায় বিঘ্নিত হতে হচ্ছে বর্তমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে। এহেন সংকট সমাধান কল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং সচিবগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
Leave a Reply