1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে - দৈনিক আমার সময়

প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে

আমার সময় অনলাইন
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বর্তমানে আমাদের প্রচলনটাই যেন প্লাস্টিকের উপর নির্ভর করে আছে। প্লাস্টিক ব্যবহার করা ছাড়া যেন জীবন একেবারেই চলছে না। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই যেন এই বস্তুটি এখন মানুষের জীবনে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তবে মানুষের জীবনের সাথে এই প্লাস্টিকের ব্যবহার দুই একদিনে জড়িয়ে যায়নি। বরং ক্রমান্বয়ে এটি মানুষেরে জীবনে জায়গা করে নিয়েছে। তাই মানুষ প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এখন এই প্লাস্টিকের বস্তু ব্যবহার করছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো এই অতিরিক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার আমাদের সর্বনাশ ঢেকে আনছে। তা হয়ত কেউ জানে, কেউ জানেনা। আবার অনেকে জেনেও সচেতন হচ্ছেন না। ফলে এর প্রভাবে আগামীতে আমাদের চরম বিপর্যয়ে পড়তে হবে। বর্তমান সময়ে সরকারি-বেসরকারি অফিসে, বিয়ে-শাদিসহ সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে সর্বত্র ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাস্টিক বোতল। বাস, প্লেন, রেল ও লঞ্চেও খাবার পানির জন্য শতভাগ ব্যবহার হচ্ছে প্লাস্টিকের বোতল। এ ছাড়া বাচ্চাদের টিফিন বক্স ও খাবার পানির বোতলও প্লাস্টিকের। বাসায় খাবার টেবিলে কাচের জগের জায়গা দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের জগ। বিভিন্ন দোকান ও বাজারে বিক্রি হওয়া তেল এবং কোমল পানীয় বিক্রি হচ্ছে প্লাস্টিক বোতলে। দামে সাশ্রয়ী ও দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারায় দেশের বেশির ভাগ মানুষই এখন প্লাস্টিকের বোতল ও পাত্র ব্যবহার করছে। ফলে জীবনের প্রতিটি পদে মানুষ প্লাস্টিকের জালে জড়িয়ে পড়ছে। এতে খাবারের সঙ্গে মানুষ কখনো না কখনো প্লাস্টিক খেয়ে ফেলছে। আর এর মাধ্যমেই প্লাস্টিক বোতল ডেকে আনছে সর্বনাশ। প্লাস্টিক শুধু স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশের জন্যও সর্বনাশ ডেকে আনছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্লাস্টিকের প্রভাবে মানুষের ক্যান্সার, অ্যাজমা, অটিজম এবং হরমোনজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগ হয়। এ ছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্যরে মাধ্যমে যে শুধু যে নদীনালা ও খালবিল ভরাট হচ্ছে তা নয়, এর ফলে পরিবেশের আশপাশেও বিষ ছড়িয়ে পড়ছে। মূলত করোনা মহামারির পর দেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকসামগ্রীর ব্যবহার ব্যাপকহারে বেড়েছে। আর ব্যাপকভাবে প্লাস্টিকের বোতল যত্রতত্র ফেলার কারণে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও কর্ণফুলীর মতো প্রধান নদনদীগুলো এখন দূষণে জর্জরিত। ছোট ছোট নদনদী, শাখা নদী, খাল এমনকি শহরের জলাবদ্ধতার জন্যও এ প্লাস্টিক বোতল দায়ী। সুতরাং মানুষ এবং দেশকে রক্ষা করতে হলে প্লাস্টিক ব্যবহার কমিয়ে আনাটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু সরকারকে সচেতন হলে হবে না। বরং প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজেদের জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। আমরা আশা করছি অতিরিক্ত প্লাস্টিক ব্যবহারের এই ক্ষতির প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য সরকার জনসাধারণের মাঝে এ বিষয়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সচেতনতা জাগিয়ে তুলবেন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার্থে প্লাস্টিকের বস্তু যেখানে সেখানে পেলে রাখার বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com