1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
‎সোশ্যাল মিডিয়ার ছায়ায় সম্পর্ক সংকটঃ বাড়ছে ডিভোর্স ও ব্রেকআপের হার - দৈনিক আমার সময়

‎সোশ্যাল মিডিয়ার ছায়ায় সম্পর্ক সংকটঃ বাড়ছে ডিভোর্স ও ব্রেকআপের হার

জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

‎প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক সময়ে মানুষের জীবন যেমন সহজতর হয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতাও বেড়েছে বহুগুণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিভোর্স ও ব্রেকআপের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজ বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্পর্ক ভাঙনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।
‎টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এই ভার্চুয়াল জগতে অতিরিক্ত সম্পৃক্ততা বাস্তব সম্পর্কের উপর ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব। অনেক ক্ষেত্রে সঙ্গীর অজান্তে অনলাইন যোগাযোগ, গোপন চ্যাটিং, পুরনো সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন কিংবা নতুন সম্পর্কের সূচনা, এসব বিষয় দাম্পত্য জীবনে অবিশ্বাস ও সন্দেহ তৈরি করছে।
‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার ফলে পরিবার ও প্রিয়জনদের জন্য সময় কমে যাচ্ছে। এতে পারস্পরিক যোগাযোগ হ্রাস পেয়ে তৈরি হচ্ছে মানসিক দূরত্ব। ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিও বড় আকার ধারণ করে শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক ভাঙনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়াও, অন্যের সাজানো-গোছানো সুখী জীবনের ছবি ও পোস্ট দেখে অনেকেই নিজের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ছেন। এর ফলে সম্পর্কের মধ্যে তুলনা, হীনমন্যতা ও অসন্তোষ জন্ম নিচ্ছে, যা দাম্পত্য কলহকে আরও উসকে দিচ্ছে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অনলাইন নির্ভরতা মানুষের আবেগ ও আচরণে পরিবর্তন আনে। বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে অনেকেই ভার্চুয়াল জগতে আশ্রয় খুঁজতে চান, যা দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
‎এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষজ্ঞরা পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান ও খোলামেলা যোগাযোগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সংযমী হওয়া, সঙ্গীর প্রতি আন্তরিক থাকা এবং বাস্তব সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
‎তাদের মতে, প্রযুক্তি নিজে খারাপ নয়, বরং এর ব্যবহারই নির্ধারণ করে এর প্রভাব। সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ন্ত্রণে এনে সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব।
‎সচেতন মহলের অভিমত, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় সম্পর্ক ভাঙনের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পেয়ে সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com