1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
‎বাংলাদেশ ব্যাংকের পাহাড় দখলে ভূমিদস্যু, নীরব কর্তৃপক্ষ - দৈনিক আমার সময়

‎বাংলাদেশ ব্যাংকের পাহাড় দখলে ভূমিদস্যু, নীরব কর্তৃপক্ষ

জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

‎চট্টগ্রাম নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচলাইশ থানাধীন পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজার আরএস ২৬৭০/৭২ (সম্পূর্ণ) ও ২৯৫৬ দাগের (আংশিক) প্রায় ১০.৬৪ একর আয়তনের একটি পাহাড় বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মালিকানাধীন এই পাহাড়টি দখল ও কাটার মাধ্যমে ধ্বংস করে দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র। সংশ্লিষ্টদের মতে, মালিকানাধীন সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদাসীনতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
‎সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়টির কোনো সীমানা প্রাচীর বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এটি কার্যত দখলদারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ তদারকির অভাবে ভূমিদস্যুরা নির্বিঘ্নে পাহাড় কেটে দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ও.আর. নিজাম আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর সড়কের শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই পাহাড়ের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে, সোহেল নামের এক ব্যক্তি কেটে দখল করেছেন। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে আধাপাকা স্থাপনা। সম্প্রতি তিনি পুনরায় পাহাড় কাটার কাজ শুরু করলে বিষয়টি এক সচেতন পরিবেশ কর্মীর নজরে আসে।
‎পরে পরিবেশবিদ মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ বিষয়টি অবহিত করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মুত্তাদির হাসানকে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে পাঠানো হয় পরিদর্শক অন্তর সাহা ও রুম্পা শিকদারকে। সরেজমিনে গিয়ে তারা পাহাড় কাটার সত্যতা ও অবৈধ দখলের প্রমাণ পান।
‎অভিযান চলাকালে অভিযুক্ত সোহেলকে নোটিশ প্রদান করতে গেলে তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বাকবিতণ্ডায় জড়ান। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা থানা পুলিশের সহায়তায় আগামী রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
‎এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাহাড় রক্ষা ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে তাদের পর্যাপ্ত জনবল নেই। সীমিত লোকবল দিয়ে নিয়মিত তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে পাহাড়খেকো চক্র।
‎পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি দ্রুত তাদের এই সম্পত্তি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ, বিশেষ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও কঠোর নজরদারি গ্রহণ না করে, তবে অচিরেই প্রায় ১০ একরের এই পাহাড়টি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে পুরো এলাকাকে আবাসিক প্লটে রূপান্তরের অপচেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‎এ বিষয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী পরিবেশবিদ মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এগিয়ে এসে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com