ময়মনসিংহের নান্দাইলে জাল নিবন্ধন সনদে ২২ বছর ধরে চাকরি করছেন এক শিক্ষক। চাকরিজীবনে পাওয়া প্রায় ১৯ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নান্দাইল উপজেলা সদরে অবস্থিত নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক বিশ্বজিৎ সাহার (ইনডেক্স নম্বর-১০২৬১৮০) বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি এমপিওভুক্ত হন। সম্প্রতি এক অডিট তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আপত্তি ওঠে। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, বিশ্বজিৎ সাহার নিবন্ধন সনদটি জাল। ওই শিক্ষক এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সরকারি কোষাগার থেকে নেওয়া ১৮ লাখ ৬১ হাজার ৭১০ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্বজিৎ সাহা জানান, বগুড়ার নট্রামস থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে যথাযথ নিয়মেই তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হন। কিন্তু পরে নট্রামস প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নাম পরিবর্তন হয়ে নেকটার হয়। শিক্ষা অধিদপ্তরের অডিট টিম কাগজপত্র চাইলে প্রতিষ্ঠানটি তা দেখাতে না পারায় অডিট প্রতিবেদনে সনদটিকে ‘জাল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “এই অবস্থার শিকার আরও ১২৩ জন ছিলেন। তাদের দায়মুক্তি দিয়ে পুনরায় তিন মাসের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আমরা ২২৯ জনও দায়মুক্তির আবেদন করেছি। আশা করছি, আমরাও দায়মুক্তি পাব।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তে বিশ্বজিৎ সাহার সনদটি জাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ ফেরত সংক্রান্ত একটি চিঠি বিদ্যালয়ে এসেছে। তাকে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে জানানো হয়েছে। এখন পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।
Leave a Reply