নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহন বাসের চাপায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পাঁচজন নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ সময় ক্ষুদ্ধ জনতা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে এবং কয়েকটি বাস ও ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।
১১ জুলাই (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে একটি ডিমবোঝাই ট্রাকের চাকা ফেটে সড়কে উল্টে গেলে বিপুল পরিমাণ ডিম ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় লোকজন সড়কে নেমে ডিম সংগ্রহ করতে থাকেন। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে নড়াইলগামী নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস তাদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত সাতজন।
নিহতদের মধ্যে ট্রাকচালকও রয়েছেন। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তাৎক্ষণিক নিহত তিনজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন জয়নাল (২৭), আরিফ (২৭) ও ওবায়দুর (৪০)। অপর দুইজনের মধ্যে ডিমবাহী ট্রাকের চালকও রয়েছেন। ট্রাকচালক বাদে নিহত ও আহতরা সবাই সোয়াদী এবং আশপাশ এলাকার বাসিন্দা।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে এবং কয়েকটি বাস ও ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায় দুর্ঘটনার সময় সড়কে অনেক মানুষ এলোপাথাড়ি ভাবে রাস্তার উপর থেকে ডিম খুঁটতে ব্যাস্ত থাকায় অপরদিক থেকে দ্রুতগতির নড়াইল এক্সপ্রেস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্ককর্তা হেলালউদ্দিন বলেন, এ দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের সবার নাম–পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। গুরুতর আহতদের ভাঙ্গা, ফরিদপুর ও ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। পরিস্থিতি সাভাবিক হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply