মাদারিপুর জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল খানের নামে ভূয়া ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরীরত আলী ইসলামের বিরুদ্ধে গত ২৬ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন দূূদকে অভিযোগ করেছেন শাহ্ আলম নামের একজন সচেতন নাগরিক।
দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক-এ করা অভিযোগ হতে জানতে পারা যায়, মাদারীপুর জেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নে আদমপুর গ্রামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে ভূয়া ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে আলী ইসলাম নামের এক প্রতারক মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বাগিয়ে নিয়েছেন সরকারী চাকরী।
বাংলাদেশের বেকার সমস্যা যখন শিক্ষিত সমাজে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে , তখনই দেখা যায় একজন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তার নামে ভূয়া ওয়ারিশান সনদ জালিয়াতি করে, আলী ইসলাম ওরফে আসলাম নামের এক প্রতারক প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সনদ সুত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ লাল খান, পিতা-মৃত মোঃ খান্দু খান, মাতা- বনা বিবি, গ্রাম- আদমপুর, ডাকঘর- পেয়ারপুর, উপজেলা- মাদারীপুর সদর, জেলা- মাদারীপুর । মুক্তিযোদ্ধা সনদ নাং-৩৭১৮৮, তারিখ- ৬ ডিসেম্বর ২০০০।
মুক্তিযোদ্ধা লাল খানের মৃত্যুর পর গত ১৮-১২-২০২২ ইংরেজি তারিখে, পেয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার তাজনেহার স্বাক্ষরিত ওয়ারিশ সনদে দেখা যায়, আমেনা বেগম তার -স্ত্রী, লুৎফা বেগম -কন্যা, মো. দেলোয়ার হোসেন -পুত্র, মৃত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান -পুত্র, নাজমা আক্তার -কন্যা, মো. শহিদুল ইসলাম -পুত্র, মনিরুজ্জামান -পুত্র, মোছা. অনিতা আক্তার সালমা -কন্যা, মোছা মনিকা -কন্যা ও মো. রকিবুল ইসলাম ইসলাম -পুত্র। এই দশজনকে ওয়ারিশ হিসাবে দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে পেয়ারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের সাথে কথা বললে এই প্রতিবেদককে, বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল খানের ১০জন ওয়ারিশের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল খানের অষ্টম সন্তান মোছা. মনিকার সাথে বিয়ে হয় একই গ্রামের আলী ইসলাম ওরফে আসলাম পিতা- মৃত সিদ্দিক মুন্সী, মাতা- তাছলিমা খাতুনের সঙ্গে। আলী ইসলাম ওরফে আসলাম ১৩-০৮-২০১৮ সালে আইনজীবী অহিদুজ্জামান (বোরহান) এর মাধ্যমে সিনিয়র জজ আতিকুল ইসলাম এর আদালতে জালিয়াতি করে এফিডেভিট করে নিজের মা তাছলিমা কে বানিয়েছেন তার মৃত শশুর মুক্তিযোদ্ধা লাল খানের মেয়ে, তিনি হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার নাতি এবং সেই সুবাদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বর্তমানে আয়কর অঞ্চল-৫ এর ভৈরব কিশোরগঞ্জে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন।
এ বিষয়ে আলী ইসলাম ওরফে আসলামের নিকট মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার মামা সব জানে এবং মামার নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
রাজধানী মোহাম্মদপুর নিবাসী শাহ্ আলম এর নিকট দুর্নীতি দমন কমিশন দূদকে অভিযোগ করার কারন জানতে চাইলে তিনি দৈনিক আমার সময়’কে বলেন, “দেশে শিক্ষিত বেকারের বেশীর ভাগ যখন ধুকে ধুকে মরছে তখন এমন অশিক্ষিতরা দেশের মানুষের কষ্টার্জিত টাকা খাবলে নিচ্ছে, প্রতারনা করছে দেশ ও জাতীর সাথে তখন আমার নিজের বিবেকবোধ থেকেই এই অন্যায়ের প্রতিবাদ স্বরূপ অভিযোগ করেছি।”
Leave a Reply