কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরা দিতে আসা বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। আজ রবিবার (২৪ মে) দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এ সময় অস্ত্রধারী এক যুবককে পুলিশ হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হলেও সন্ত্রাসীদের গুলিতে মইন (৩০) নামের লিয়াকত মেম্বারের এক নিকট আত্মীয় গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় বর্তমানে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
যেভাবে ঘটল ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে একটি মামলায় হাজিরা দিতে কক্সবাজার আদালতে আসেন বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী। তিনি আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান করার সময় হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি বর্ষণ শুরু করে। এতে চারদিকের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন।
সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে লিয়াকত আলীর সাথে থাকা তার নিকট আত্মীয় মইন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজন ও পুলিশ দ্রুত এগিয়ে এসে ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ এক যুবককে আটক করে। তবে বাকি সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গুলিবিদ্ধ মইনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ও সচেতন মহলের উদ্বেগ
আদালত প্রাঙ্গণের মতো একটি সর্বোচ্চ সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল স্থানে দিনে-দুপুরে এমন প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া এবং হামলার ঘটনা কেবল আদালতের নিরাপত্তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং পুরো কক্সবাজারের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সচেতন মহলের মতে, আদালত এমন একটি পবিত্র স্থান যেখানে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার আশায় আসে। সেখানে যদি প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উঁচিয়ে হামলা করতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়—আজ সেই প্রশ্নটিই সামনে চলে এসেছে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অভিযানের দাবি
স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা নয়। কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও নানাবিধ অপকর্ম আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুধু আদালত প্রাঙ্গণ নয়, পুরো কক্সবাজার জেলা জুড়ে যৌথ বাহিনীর বিশেষ ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
জনসাধারণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ঘটনার নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী। কোনো অপরাধী যেন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত এবং জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
Leave a Reply