টানা ভারী বর্ষণ ও অতি বৃষ্টিতে আবারও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগর। আগ্রাবাদ, হালিশহর, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়সহ নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী।
প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি, সবখানেই হাঁটু থেকে কোথাও কোমরসমান পানি জমে জনজীবন প্রায় স্থবির। আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সড়ক ডুবে গিয়ে যান চলাচল অচল হয়ে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
এ অবস্থার মধ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নগরের নালা-নর্দমা পরিষ্কার, খাল পুনঃখনন, আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, বিরূপ আবহাওয়াকেও উপেক্ষা করে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজেই বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করছেন। ভারী বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও তাকে মাঠে থেকে কাজ তদারকি করতে দেখা গেছে, যা নগরবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধানে নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি।
মেয়রের এমন সক্রিয় উপস্থিতি ও তৎপরতা উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি এনেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। ইতোমধ্যে নগরের বিভিন্ন স্থানে খাল উদ্ধার, ড্রেন সংস্কার এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা নিরসনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে বাস্তবতায় এখনো জলাবদ্ধতা থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল দখল, ড্রেনে ময়লা ফেলা এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফলেই এ সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে।
সম্প্রতি সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজেও বলেছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, জনসচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নগরবাসীকে ড্রেনে আবর্জনা না ফেলা এবং খাল-নালা রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সচেতন মহলের মতে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা গেলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
প্রশ্ন রয়ে গেছে, প্রতিবছর একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি আর কতদিন? তবে প্রতিকূলতার মাঝেও সিটি কর্পোরেশন ও মেয়রের নিরলস প্রচেষ্টা নগরবাসীর মাঝে আশার আলো জাগাচ্ছে। এখন সেই প্রচেষ্টার বাস্তব সুফল দেখতে চায় পুরো চট্টগ্রাম।
Leave a Reply