ঢাকা-১৯ আসনে (সাভার-আশুলিয়া) ঈগলের সমর্থকের বাড়িতে নৌকার সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও পুলিশের উপস্থিতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মোঃ তৌহিদ জং মুরাদের সমর্থকের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও নারীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
০১ জানুয়ারী (সোমবার) আনুমানিক রাত দশটার দিকে উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুরের নবি চাঁন ও সামাদের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। রাতেই সাভার মডেল থানায় অভিযোগ করতে গেলেও অভিযোগ নেয়া হয়নি এবং ভূক্তভোগীদের সাথে ডিউটি পুলিশ অফিসারের অপেশাদার আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মন্ডলের অনুসারী ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সজিবের নেতৃত্বে আট দশজনের সন্ত্রাসী বাহিনী পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগীরা।
হামলায় আহত নবি চাঁনের স্ত্রী চায়না বেগম দৈনিক আমার সময়-কে বলেন, রাত দশটার দিকে সজিব, মনির, রবিউল, মুরাদ, রানা সহ আট দশজন অতর্কিত হামলা চালায়। ভাংচুর করে, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাপয়সা লুট করে। এসময়, বাধা দিতে গেলে চায়না বেগমকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানান তিনি। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে সজিব বাহিনী একটি বাইক রেখেই অন্য বাইকগুলো নিয়ে সটকে পড়ে।
হামলায় আহত অপর এক নারী জানান, সজিব হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকেও আহত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে ভবানীপুর ফাঁড়ির পুলিশ উপস্থিত ছিল। চোর-ডাকাত শ্লোগান দিয়ে সেখানে হামলা চালানো হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঈগলের সমর্থক বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন বলেন, আমরা কোন সহিংসতায় জড়াতে চাই না। আমরাও আওয়ামীলীগের রাজনীতি, আওয়ামীলীগের আদর্শ মেনে চলি। নির্বাচন সুষ্ঠ হবে এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা। আমরা কোন হামলা-সহিংসতা মেনে নিবো না। এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি ঈগলের স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মোঃ তৌহিদ জং মুরাদকে অবগত করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হামলার সত্যতা জানতে অভিযুক্ত সজিবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ঘটনার বিষয়ে শুনেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
৪ নং ওয়ার্ড সদস্য বেলাল মেম্বার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দৈনিক আমার সময়-কে বলেন, স্থানীয় ভাবে বসে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এবিষয়ে জানতে সাভার মডেল থানার ভবানীপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোকলেছুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনাস্থলে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে দৈনিক আমার সময়-কে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় একটি হোন্ডা নিয়ে আসা হয়েছে। মালিকানা যাচাই করে বাইকটি বুঝিয়ে দেয়া হবে।
এবিষয়ে জানতে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকবর আলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
Leave a Reply