এক সময় মানুষ সংসার করত ভালোবাসা, দায়িত্ব আর বিশ্বাস দিয়ে।এখন অনেকে সংসার করে ওয়াইফাইয়ের পাসওয়ার্ড আর “লাস্ট সিন” লুকিয়ে।
আজকাল কিছু মানুষ এমনভাবে গোপন সম্পর্ক চালায়, যেন তারা আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন মিশনে আছে।মোবাইলে আলাদা লক।মেসেঞ্জারে ভ্যানিশ মোড।রাতে বালিশের নিচে ফোন।আর মুখে সেই পুরনো সংলাপ,“তুমি আমাকে ভুল বুঝছো।”
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, যারা সংসারের দায়িত্ব পালন করতে হাঁপিয়ে ওঠে, তারাই আবার ফেসবুকে গভীর প্রেমের দার্শনিক পোস্ট দেয়।বাস্তবে সন্তানের স্কুল ফি বাকি, অথচ অনলাইনে চলছে আবেগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন।
রসিকতা করে বলতেই হয়,পরকীয়াবিদদের জন্য সত্যিই আলাদা চিড়িয়াখানা দরকার।খাঁচার সামনে লেখা থাকবে,“এরা একসময় সংসার নামক বিরল প্রতিষ্ঠানের সদস্য ছিল। পরে মোবাইল নোটিফিকেশনের ডাকে বন্য হয়ে যায়।”
আরেক পাশে হয়তো সতর্কবার্তা থাকবে,“খাঁচার কাছে বেশি যাবেন না। এরা সুযোগ পেলে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যেতে পারে।”
কিন্তু হাসির আড়ালে বাস্তবতা ভয়ংকর।
জাতীয় দৈনিক খুললেই দেখা যায়,পরকীয়া কেন্দ্রিক পারিবারিক ভাঙন, আত্মহত্যা, খুন, শিশুদের মানসিক বিপর্যয়, দীর্ঘ আইনি জটিলতা।অনেক সন্তান আজ বাবা মায়ের ঝগড়ার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বড় হচ্ছে।কেউ মায়ের জন্য কাঁদছে।কেউ বাবার জন্য অপেক্ষা করছে।কেউ আবার শিখছে, সম্পর্ক মানেই হয়তো প্রতারণা।
সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, সমাজ ধীরে ধীরে বিশ্বাস হারাচ্ছে।স্বামী স্ত্রী একে অন্যকে সন্দেহ করছে।বন্ধুত্বেও স্বচ্ছতা কমছে।ভালোবাসা এখন অনেকের কাছে দায়িত্ব নয়, সাময়িক বিনোদন।
আধুনিকতা মানে চরিত্রহীনতা নয়।স্বাধীনতা মানে প্রতারণার লাইসেন্স নয়।আর ব্যক্তিগত জীবন মানে এমন কিছু নয়, যার আগুনে সন্তানদের ভবিষ্যৎ পুড়ে ছাই হবে।
সংসার নিখুঁত হয় না।ঝগড়া থাকবে, অভিমান থাকবে, মতের অমিল থাকবে।কিন্তু সম্পর্কের সংকটের সমাধান প্রতারণা হতে পারে না।
কারণ,একটি গোপন সম্পর্ক শুধু দুইজন মানুষকে বদলায় না,পুরো একটি পরিবারকে নীরবে ধ্বংস করে দেয়।
Leave a Reply