দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। ইতোমধ্যে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এতে মনোনয়নবঞ্চিত অনেক আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিএনপিসহ কয়েকটি দল নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নয়। এ অবস্থায় কোনো প্রার্থী যাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত না হন, সে জন্য ডামি (স্বতন্ত্র) প্রার্থী রাখতে নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। এ জন্য বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের আটটি আসনের সাতটিতেই রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে নৌকার প্রার্থী কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবু।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুর।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে নৌকার প্রার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. কামরুল হাসান খান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আছেন আমানুর রহমান খান রানা। সাবেক এমপি আতাউর রহমান খানের সন্তান।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে নৌকা পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। সাবেক এমপি সোহেল হাজারী
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চান জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছানোয়ার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে নৌকার প্রার্থী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন খান আহমেদ শুভ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে চান মির্জাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু।
টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান জয়। এখানে তাঁর সঙ্গে লড়বেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী।
এদিকে আগামী নির্বাচনে দল মনোনীত একক প্রার্থীদের কাছে চিঠি হস্তান্তর শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব চিঠি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মনোনয়নপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা থাকতে পারে কারো কারো। তাই দলীয় নেতারা চাইলে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতেই পারেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দলের প্রয়োজনেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত।’
আওয়ামীলীগ এর বিরুদ্ধে সতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামীলীগ এই বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি বলেন, ‘নেত্রী (আওয়ামী লীগের সভাপতি) ডামি প্রার্থী রাখতে বলেছেন। তাই বলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হবেন– এটা ভাবা যায় না। এ রকম প্রার্থী হলে দলের মধ্যে বিভেদ তৈরি হবে।’
Leave a Reply