রাজধানীর দক্ষিণখানে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী শ্রমিককে গণধর্ষণের অভিযোগে তারই দুই সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিন খান থানা পুলিশ। দক্ষিণখানের চামুরখান থেকে শুক্রবার মধ্যরাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ চৌরাস্তার লায়লা খাতুনের ছয় তলা বাড়ির পঞ্চম তলায় বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলেন, আল আমিন (২১) ও রানা মিয়া (১৮।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উত্তর খান থানার চামুরখান এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।। চামুরখানের আক্তারের চুলের ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন ভুক্তভোগী ও আসামিরা।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে চামুরখানের একটি চুলের ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। আল আমিন ঐ ফ্যাক্টরির সুপারভাইজার হিসাবে কর্মরত। আর রানা হলেন অপারেটর। আল আমিন আমার মেয়েকে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যায়, এবং আমার মেয়েকে ওদের সঙ্গে এক রাত থাকার জন্য প্রস্তাব দেন। না থাকলে ওরা চাকরি থেকে বের করে দিবে অথবা বেতন কমিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। তাদের ভয়ে তখন আমার মেয়ে তাদের সাথে যায়, আল আমিন ও রানা ওরে( কিশোরীকে) রিকশা দিয়ে ওদের বন্ধু শাওনের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং একটি রুমে সারা রাত পালাক্রমে ধর্ষণ করে।’
তিনি আরও বলেন , ‘পরে সকাল ৬টার দিকে রানা আমার মেয়েকে উত্তরখান মাজারে পৌঁছে দেয়। সেই সঙ্গে রিকশা ভাড়ার জন্য ২০০ টাকা হাতে ধরিয়ে দেয়। বাসায় আসলে আমার মেয়ের জামাই গালে ও ঘাড়ে দাগ দেখে বুঝে ফেলে। আমার মেয়েকে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়, আমাদের অভাবের সংসার, কয়েকমাস হলো মেয়ের বিয়ে হয়েছে,এর মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে। পরে আমরা দক্ষিণ খান থানায় মামলা দেয়।
এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানার ওসি (অপারেশন) মো. আফতাব উদ্দিন শেখ বলেন, ‘দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ চৌরাস্তার লায়লা খাতুনের বাড়িতে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে উত্তরখানের চামুরখান এলাকা থেকে দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
Leave a Reply