গণভোটে প্রদত্ত গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের চার দফা দাবিতে শনিবার (১১ জুলাই) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
দেশব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের ভোটের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তিস্তা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধ এবং মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, “চার দফা দাবি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন। জনগণের মতামত ও গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।”
এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, “দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন বলেন, “জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যার অবসান ঘটাতে সরকারকে কূটনৈতিকভাবে আরও শক্ত অবস্থান নিতে হবে।”
নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী বলেন, “তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে দ্রুত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”দেশের মানুষের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের স্বার্থে চার দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।” সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের এমপি সদস্য গন ও রংপুর বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, পুশ-ইন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এবং জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে চার দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সমাবেশকে ঘিরে রংপুর মহানগর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়। উত্তরাঞ্চলের মানুষের দাবি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতেই এই বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
Leave a Reply