চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানাধীন দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর এলাকার বোরখান পাড়ায় আনসার নামে এক ব্যক্তির চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ক্যাসিনো জুয়ার রমরমা আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে চায়ের দোকান চালানোর আড়ালে নিয়মিতভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জুয়ার আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে দোকানদার নিজেও সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েকজন করে জড়ো হয়ে মোবাইল ফোনে অনলাইন গেম বা অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থের বাজি ধরে জুয়ার আসর বসায়। এতে এলাকার কিশোর, তরুণ এমনকি দিনমজুর শ্রেণির মানুষও দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়ছে। সামান্য আয়ের মানুষ দ্রুত অর্থ লাভের আশায় এই জুয়ার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, শুধু আনসারের দোকানেই নয়, আশপাশের সাচী চৌধুরী পাড়া মোড়সহ এলাজার আরও বিভিন্ন চায়ের দোকানেও একই ধরনের জুয়ার আসর বসে। এসব স্থানে জুয়ার পাশাপাশি মাদক সেবনের মতো ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে পাওয়া কিছু ভিডিও চিত্রেও দেখা মিলে এমন দৃশ্য।
অভিযোগ রয়েছে, পবিত্র রমজান মাসেও এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। দিনের বেলায় চায়ের দোকান বন্ধ থাকার নিয়ম থাকলেও অনেক দোকানে পর্দা টানিয়ে গোপনে বেচাকেনা চালানোর পাশাপাশি জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। এতে রমজানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মোবাইলভিত্তিক এই ক্যাসিনো জুয়া এখন অনেক এলাকায় ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এতে কিশোর-তরুণরা দ্রুত বিপথে যাচ্ছে, পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংসার ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনে করেন, জুয়া শুধু একটি অবৈধ কর্মকাণ্ড নয়, এটি সমাজে অপরাধ প্রবণতা, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক অশান্তির অন্যতম বড় কারণ। দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই মোবাইল ক্যাসিনো জুয়ার বিস্তার আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এসব অবৈধ জুয়ার আসর দ্রুত বন্ধ করা হোক এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।
Leave a Reply