আসন্ন বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ০৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘোপখালীতে নতুন প্রত্যাশার বার্তা ছড়াচ্ছেন মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ মেহেদী হাসান সাদ্দাম। নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি প্রকাশ করেছেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচনী ইশতেহার, যেখানে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং যুবসমাজের অগ্রগতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারের শুরুতেই তিনি ওয়ার্ডবাসীর প্রতি বিনয় ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। জীবনের চলার পথে তার অজান্তে যদি কারও মনে কোনো কষ্ট, ক্ষোভ বা অভিযোগ থেকে থাকে, তবে তিনি নিজে গিয়ে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত। তিনি বিশ্বাস করেন, ক্ষমা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই একটি সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি। একজন দিনমজুর ও কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠা মেহেদী হাসান সাদ্দাম বলেন, আমার পরিচয় কোনো প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, আমি আপনাদেরই একজন। ঘোপখালীর মাটিতে জন্মেছি, এই মাটির মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনার সঙ্গে আমার জীবন জড়িয়ে আছে।
স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করার পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঘোপখালীর উন্নয়নই প্রথম অগ্রাধিকার, ইশতেহারে তিনি বলেন, জনসংখ্যা ও সম্ভাবনার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ঘোপখালী এখনও অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিশুদ্ধ পানি, কর্মসংস্থান এবং সেবার স্বচ্ছতায় কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। নির্বাচিত হলে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন।
তার ভাষায়, মেম্বার মানে ক্ষমতার আসন নয়, দায়িত্বের আসন। জনগণের প্রতিনিধি হয়ে নয়, জনগণের কর্মী হয়ে কাজ করতে চাই।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন দৃষ্টান্ত গড়ার প্রত্যয়- নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দকৃত প্রতিটি সরকারি সুবিধা ও উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফসহ সব ধরনের সুবিধাভোগীর তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে এবং প্রতি মাসে উন্মুক্ত ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে জনগণের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হবে।
রাস্তা, ড্রেন ও আলোকিত ঘোপখালীর পরিকল্পনা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাঁচা রাস্তা সংস্কার ও পাকা করার উদ্যোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতি স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তিনি।যুবসমাজকে সম্পদে পরিণত করার অঙ্গীকার-
মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজকে রক্ষার জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বেকার তরুণদের জন্য সরকারি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করারও অঙ্গীকার করেছেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে বিশেষ গুরুত্ব-
কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য না হয়, সে লক্ষ্যে শিক্ষা সহায়তা তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে তার। এছাড়া বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মানোন্নয়ন এবং কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। সামাজিক ন্যায়বিচার ও নিরাপদ সমাজ গঠনের প্রত্যয়-
গ্রাম্য সালিশে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সমান বিচার নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় তরুণদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেছেন। দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি-
বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন মেহেদী হাসান সাদ্দাম। দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, আমি ঘোপখালীর মাটির সন্তান। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আপনাদের পাশে থাকতে চাই। ঘুষ, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান আপোষহীন। আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া ও মূল্যবান ভোট পেলে একটি উন্নত, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক ঘোপখালী গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের মূল প্রতিপাদ্য—
সেবাই ব্রত, উন্নয়নই লক্ষ্য—ঘোপখালী হবে সবার।
Leave a Reply