1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
গানের মায়াজাল বুনন: গীতিকার আর এ আশরাফুলের সংগীতযাত্রা - দৈনিক আমার সময়

গানের মায়াজাল বুনন: গীতিকার আর এ আশরাফুলের সংগীতযাত্রা

ফরিদ আলম সৌরভ 
    প্রকাশিত : শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৪
গান মানুষের মনের কথা বলে, অনুভূতিকে ছুঁয়ে যায় এবং জীবনের গল্পকে সুরে বেঁধে শোনায়। এমনই একজন গীতিকার যিনি সাধারণ মানুষের মনের কথা হৃদয়ের গভীর থেকে তুলে এনে সুরে সাজান, তিনি আর এ আশরাফুল। ফোক, মরমী এবং লোকজ ধারার সুরের বুননে তিনি নির্মাণ করেছেন এক অনন্য সংগীত ভাণ্ডার, যা দেশের সংগীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।
গীতিকার হিসেবে আর এ আশরাফুলের পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। সাংবাদিক ও গীতিকার নিহার আহমেদের থেকে শব্দের সূক্ষ্ম ব্যবহার এবং গাঁথুনি শেখার মাধ্যমে তাঁর গীতিকাব্য নির্মাণের মূল ভিত তৈরি হয়। সেই তালিমকে সঙ্গী করে তিনি এগিয়ে যান আরও সুদূরে।
আর এ আশরাফুলের গীতিকবিতায় মনন অনুপ্রেরণা আসে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বাউল শিল্পী জহির পাগলার কাছ থেকে।
জহির পাগলা শুধুমাত্র একজন বাউল শিল্পী নন, তিনি একজন সৃজনশীল প্রেরণাদাতা, যাঁর অনুপ্রেরণায় আশরাফুলের গীতিকবিতার জগতে প্রথম প্রবেশ ঘটে। জহির পাগলা প্রথম আশরাফুলের গান মঞ্চে পরিবেশন করেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ঐ মুহূর্তটি আশরাফুলের সংগীতজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে ওঠে। বাউল গানের ধ্রুপদী ধারা এবং মরমী সুরের গভীরতা আশরাফুলের লেখার মধ্যেও প্রবাহিত হতে থাকে। জহির পাগলার মতো একজন স্বনামধন্য শিল্পীর সঙ্গে কাজ করা আশরাফুলকে শুধু গীতিকবিতার দিক থেকে নয়, বরং মানবিক সম্পর্ক, প্রেম, বিরহ এবং জীবনের গভীরতম অনুভূতিগুলোর প্রতিফলন ঘটানোর ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখিয়েছে।
আর এ আশরাফুলের লেখাকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছেন জনপ্রিয়  সংগীতশিল্পী আকাশ মাহমুদ। তাঁর সুর এবং কণ্ঠে আশরাফুলের লেখা গানগুলো দারুণভাবে নতুন করে প্রাণ পায়। এই যুগলবন্দি বাংলা গানের জগতে গীতিকার  আশরাফুলকে অনুপ্রেরণা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আকাশ মাহমুদের গাওয়া বেশ কয়েকটি গানই তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে আশরাফুলের লেখার গভীরতা এবং আকাশের সুরের মাধুর্য একীভূত হয়ে সংগীতপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। আকাশ মাহমুদের গায়কী শৈলী ও আধুনিক সুরারোপ আশরাফুলের লেখা গানগুলোকে আরও বেশি শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
প্রেম, বিরহ, সুখ-দুঃখ—জীবনের প্রতিটি অনুভূতিই যেন আশরাফুলের গানের মূল উপাদান। তাঁর প্রতিটি গান যেন জীবনের একেকটি অধ্যায়। আজকের দিনে গান যখন শুধুই বিনোদনের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে, সেখানে আর এ আশরাফুলের লেখা গানগুলো শ্রোতাদের গভীরভাবে স্পর্শ করতে সক্ষম। তাঁর গানের কথা সাধারণ মানুষের জীবনের গল্প বলে, আর সেখানেই হয়তো তাঁর গীতিকবিতার প্রকৃত সার্থকতা।
ইতিমধ্যে তাঁর লেখা ২৫০টিরও বেশি গান বিভিন্ন মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছে। প্রায় প্রতিটি গানেই মিশে থাকে এক অদ্ভুত গভীরতা। আর সেই গানের ভাষা হয়ে ওঠে কখনো প্রেমের, কখনো বিচ্ছেদের, কখনো জীবনের নানা সংকটের বা সুখের। তাঁর গানগুলোর মধ্যে যেমন রয়েছে লোকজ এবং বাউল সুরের ছোঁয়া, তেমনই আধুনিক ধারার প্রেম ও সম্পর্কের টানাপোড়েনও স্পষ্ট।
দেশের অনেক গুণি সংগীত শিল্পী যেমন শফি মন্ডল, মনির খান, ফজলুর রহমান বাবু, কাজী শুভ, লায়লা, বিউটি, সালমা সহ আরও অনেকে আশরাফুলের লেখা গান গেয়েছেন। তাঁর লেখায় যে ধরনের নিপুণতার ছোঁয়া থাকে, তা শ্রোতাদের মনে গভীরভাবেই প্রভাব ফেলে।
সাংস্কৃতিক দিক থেকে, তাঁর লেখা গানগুলো বাউল ও মরমী গানের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে লোকজ বিষয়ের প্রতিও আগ্রহ তৈরি করছে। নতুনত্ব এবং ঐতিহ্যের মিশেলে তার গীতিকাব্য বর্তমান সংগীতকে এক অনন্য ধারায় নিয়ে যাচ্ছে ।
গীতিকার আর এ আশরাফুলের প্রতিভা এবং অনন্য গীতিকবিতা তাঁকে দেশের সংগীতজগতের একটি বিশেষ জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। তাঁর শব্দমালায় গানগুলো শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করে, জীবনের গল্প বলে এবং সুরের মায়াজালে বন্দী করে রাখে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com