ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী অনার্সে ফেল করেও মাস্টার্স এ পাস করার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন ওই শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে অনার্সের অকৃতকার্য কোর্সে পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন।
এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার ২৮ মে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিলে ওই শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তাকে বিশেষ পদ্ধতিতে অনার্সের মান উন্নয়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
অনুসন্ধানে জানাযায় ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৭ সালে ওই শিক্ষার্থীর স্নাতক শেষ বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্নাতক শেষ বর্ষের ৪১৫ নাম্বার কোর্সে ফেল করেন তিনি। তবুও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। ২০১৮ সালে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর কৃতকার্য হন। পরবর্তীতে দীর্ঘ চার বছর পর স্নাতক শেষ বর্ষের অকৃতকার্য বিষয়ে পরীক্ষার জন্য তিনি আবেদন করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায় ওই শিক্ষার্থীর নাম শামীরুল ইসলাম।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.মাহবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে উপচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম।
একাডেমিক কাউন্সিলের তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এ সময় সভার কয়েকজন সদস্য এই ঘটনায় বিভাগ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের গাফিলতীর বিষয় তুলে ধরেন। ওই শিক্ষার্থী বলেন মূল কাগজপত্র উত্তোলন করতে গিয়ে এ বছরের ১৭ জানুয়ারি আমি জানতে পারি অনার্সে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময় বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। এমন কি বিভাগ থেকেও অকৃতকার্য বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হয়নি।
তিনি বলেন এর আগে আমি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের সাময়িক সনদপত্র উত্তোলন করি। সেখানে আমাকে কৃতকার্যে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে ডেকেছিল। আমি সব ডকুমেন্ট সেখানে উপস্থাপন করেছি।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন,একাডেমিক কাউন্সিলের ওই শিক্ষার্থী সনদ বাতিল করে পুনরায় বিশেষ মান উন্নয়ন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি ড.বখতিয়ার হাসান বলেন, আমি এখনো সিদ্ধান্তের চিঠি পাইনি, এজন্য মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। যতটুকু জেনেছি হয়তো বিভাগের অবহেলা পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড.মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম। একাডেমি কাউন্সিলের সভাই তার দুই সনদপত্র বাতিল করা হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply