রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায়র্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূমিসংক্রান্ত কাজ, প্রশাসনিক সেবা ও আদালতে হাজিরাসহ নানা প্রয়োজনে মানুষ এখানে আসেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবেশপথের বাম পাশে অপেক্ষমাণ মানুষের বসার একটি জায়গা ছিল। সেখানে বসে মানুষ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের জন্য অপেক্ষা করতেন। তবে ওই স্থানে বর্তমানে রংপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে কাচঘেরা স্থাপনা এবং প্রতীকী স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে বলে তাঁরা জানান। ফলে আগের মতো বসে অপেক্ষা করার সুযোগ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।
রংপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একটি জেলার ঐতিহাসিক পরিচয় ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে সরকারি কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন আদালতেও নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব আদালতে হাজিরা দিতে আসা বিচারপ্রার্থীসহ বিভিন্ন কাজে আসা মানুষকে নির্ধারিত সময়ের আগে উপস্থিত হয়ে অপেক্ষা করতে হয়। বসার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে তাঁদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
রংপুর জেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইটে নাগরিকদের নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত সেবা দেওয়ার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দায়িত্বের মধ্যে নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। এ অবস্থায় সেবাগ্রহীতাদের অপেক্ষার সময় স্বস্তি নিশ্চিত করতে বসার ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের মতে, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য নির্মিত স্থাপনা অক্ষুণ্ন রেখেই বিকল্প স্থানে পর্যাপ্ত বেঞ্চ বা অপেক্ষাকক্ষ তৈরি করা সম্ভব। প্রবেশপথের আশপাশে উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, অসুস্থ মানুষ এবং আদালতে হাজিরা দিতে আসা ব্যক্তিদের বসার ব্যবস্থা করা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
এ ছাড়া অপেক্ষমাণ মানুষের জন্য ছায়াযুক্ত বসার স্থান, পর্যাপ্ত বসার বেঞ্চ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলে সেবাগ্রহীতারা আরও সুশৃঙ্খলভাবে তাঁদের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে সরকারি সেবার পরিবেশও হবে আরও জনবান্ধব।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রংপুর জেলা প্রশাসন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বসার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারণ সরকারি কার্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নাগরিকের স্বস্তি, সম্মান ও সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করাও জনবান্ধব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
Leave a Reply