1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
মৌসুম শুরুতে সেন্টমার্টিনে ৮শ পর্যটক নিয়ে প্রথম জাহাজ পৌঁছাল এমভি বার আউলিয়া, বরণ করলো স্থানীয়রা - দৈনিক আমার সময়

মৌসুম শুরুতে সেন্টমার্টিনে ৮শ পর্যটক নিয়ে প্রথম জাহাজ পৌঁছাল এমভি বার আউলিয়া, বরণ করলো স্থানীয়রা

দিদারুল আলম সিকদার, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
    প্রকাশিত : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে দ্বীপে, স্বাগত জানিয়ে আগত পর্যটকদের বরণ করলেন দ্বীপের বাসিন্দারা।

কক্সবাজারের সর্ব দক্ষিণের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে শুরু হয়েছে নতুন পর্যটন মৌসুমের প্রাণচাঞ্চল্য। মৌসুমের প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি বার আউলিয়া ৮০০ পর্যটক নিয়ে দ্বীপে পৌছলে-পর্যটকদের আগমনে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও উৎসবমুখর হয়ে উঠে দেশের
সর্ব দক্ষিণের একমাত্র প্রবালদ্বীপ।

আজ সকালে কক্সবাজার থেকে ৮০০ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ‍্যে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। দ্বীপে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বাসিন্দারা উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভালোবাসায় আগত পর্যটকদের বরণ করে নেন। পর্যটকদের পদচারণায় দ্বীপজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ। পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পর্যটকদের আগমনে দ্বীপের পরিবেশে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। পর্যটননির্ভর এই দ্বীপের মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পর্যটনশিল্পের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ফলে নতুন মৌসুমের সূচনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
তবে পর্যটনের এই আনন্দঘন পরিবেশের পাশাপাশি সেন্টমার্টিনের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রবাল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতন মহলের পরামর্শ, পর্যটকদের আনন্দভ্রমণ যেন দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং পরিবেশবিধি মেনে চলার বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

পর্যটন ও প্রকৃতি—দুটিই সেন্টমার্টিনের অমূল্য সম্পদ। তাই দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে সেন্টমার্টিনকে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রাখতে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ সেন্টমার্টিনে ফিরে এসেছে উৎসবের আমেজ। পর্যটকদের আগমনে দ্বীপজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। বিশেষ করে হোটেল-মোটেল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি। তবে পর্যটনকেন্দ্রিক ভ্রমণনীতি ও নিয়ম-কানুন কিছুটা শিথিল করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারাও সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এতে দ্বীপের মানুষের মধ্যে পর্যটনের আনন্দ আরও ছড়িয়ে পড়বে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিক চৌধুরী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বীপে সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দ্বীপে কর্মরত ব্যক্তিরা নিয়মিত যাতায়াত করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com