গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাচন সামনে রেখে ডক্টর মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ মোল্লাকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামাতে ইসলামীর গাজীপুর জেলা শাখা। যিনি পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট-কমেন্ট করে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
জানা যায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভা ও ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা শাখা।শনিবার সন্ধ্যার দিকে গাজীপুর জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ওইসব প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন জেলা জামায়াতের আমির ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। জেলা সেক্রেটারি মোঃ শফিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার আমীর, সেক্রেটারিগণ উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে ডক্টর মোহাম্মদ হারুন অর রশিদকে নিজেদের মনোনীত মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। যদিও ঘোষিত প্রার্থী হারুন অর রশিদ ২০০৯ সালে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনরত থেকে ২০১৪ সালে তৎকালীন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও প্রয়াত বিএনপি নেতা শহীদুল্লাহ শহীদের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর ২০২২ সালে শ্রীপুর পৌর বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর ৩নং সদস্য হিসেবে কমিটিতে নাম রাখা হয় তাঁর। যদিও পৌর এলাকার ভোটারদের মধ্যে তিনি তেমন পরিচিতি লাভ করেননি বলে মন্তব্য করে ফেসবুক বুকে পোস্ট দিয়েছে জামাত-বিএনপির কর্মী সমর্থকরা।
এ ঘোষণার পর বিএনপি নেতারা তাদের দলের একজন সুযোগ সন্ধানী নেতা আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে অন্যান্য নেতাকর্মীরা নানা মন্তব্য লিখেছেন। পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী এক কমেন্টে লিখেন, গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পেলাম জামাতের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ড.মোঃ হারুনুর রশীদকে যিনি শ্রীপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক ১-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এড.কাজী খান এবং শহিদুল্লাহ শহিদ) কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন,আমি যতটুকু যানি গত ১২-ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সংসদ নির্বাচনে উনি আমাদেরকে এবং আমাদের প্রার্থী অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ভাইকে উনি বলেছেন উনি ধানের শীষের নির্বাচন করছেন। যদিও আমি এমপি মহোদয়কে বারবার বলেছি হারুন সাহেব আমাদের নির্বাচন করেন’না,রিকশার নির্বাচন করছে যদিও এমপি মহোদয় আমার কথা বিশ্বাস করেনি,এখন তো স্পষ্ট হলো!এখন আমার প্রশ্ন হলো উনি এবং উনার নিকট আত্বীয় স্বজন গত সংসদ নির্বাচনে কোথায় ভোট দিয়েছে?এবং জামাত কেন গুপ্ত রাজনীতি পছন্দ করে?
সদস্য সচিব বিল্লাল বেপারী বলেন,’ স্বার্থের কারণে দল পরিবর্তন করা ব্যক্তিরা রাজনীতিতে নেগেটিভ কালচারের জন্ম দেয়। এতে ত্যাগী নেতারা তাদের যথাযথ মূল্যায়ন বঞ্চিত হয়। আমরা জুলুম নিপীড়নের পরও দলের হাল ছাড়িনি। কিন্তু আগাছা পরগাছা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।’
যদিও আত্মীয়তার সম্পর্কের কারনে বিএনপি করতে হয়েছে দাবী করে ডক্টর মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন,’ ২০০৯ সালের পৌর বিএনপির পদে আমি ছিলাম। পরে আমার ব্রাদার ইন ল শহীদুল্লাহ্ শহীদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেছি পারিবারিক সম্পর্কের কারনে। কিন্তু আমি ছাত্র জীবনে শিবিরের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলাম। নেতাও হয়েছি। ২০০০ সাল থেকে জামাতে ইসলামী করেছি। পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড জামাতে ইসলামীর সভাপতি ছিলাম। জামাতের ইসলামী করার কারনে কারাভোগ করেছি। এখনও একটি কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি শ্রীপুর পৌর জামাতে ইসলামির প্রফেসর ইউনিটের সভাপতির দায়িত্বে আছি। দল যোগ্যতা ও গ্রহনযোগ্যতা বিবেচনায় আমাকে মনোনীত করেছে। ইনশাআল্লাহ জনগণকে সাথে নিয়ে আমি চেষ্টা করবো এই সন্মান রক্ষার।’
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,’ আত্মীয়তার কিংবা কোনো কারনে হয়তো বিএনপির পদে ছিলেন ডক্টর মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। কিন্তু ছাত্র জীবন থেকে জামাতে ইসলামীর সাথে সম্পর্ক ছিল তাঁর। তিনি একজন শিক্ষক ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকারী সন্মানিত ও গ্রহন যোগ্য ব্যক্তি। একই সাথে সামাজিক নানা কার্যক্রমে অংশগ্রহনরত আছন। সেইসব বিবেচনায় উনাকে পৌর মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামাতে ইসলামী। আশা করছি, দলমত নির্বিশেষে ইনসাফ কায়েমের জন্য উনাকে ভোট নিয়ে নির্বাচিত করবেন সাধারণ ভোটাররা।’
প্রসঙ্গত, গাজীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলায় চেয়ারম্যান, সব পৌরসভার মেয়র পদে ও ৩৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ২৬টিতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জেলা জামায়াত। সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলীয় প্রার্থীরা কাজ করবেন বলে জামাতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ আশা ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply